কলকাতা – কলকাতা বন্দরের তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিমের সমর্থনে শুক্রবার সন্ধ্যায় ভূকৈলাশ ময়দানে সভা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আগে হরিসভা স্ট্রিট ক্রসিং থেকে কার্ল মার্কস সরণি পর্যন্ত পদযাত্রাও করেন তিনি। সভামঞ্চ থেকে বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রীকে একের পর এক আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী, ফলে ভোটের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়ে যায়।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, প্রথম দফার ভোটে বিজেপি তৃণমূলের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় দাঁড়াতে পারেনি। তাঁর বক্তব্য, “বাংলায় বিজেপির জেতার কোনও ক্ষমতা নেই। বাংলার মানুষ ওদের চায় না।” পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, এসআইআর-এর মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং ভোটে জনসমর্থন তৃণমূলের দিকেই গেছে।
ভোটের পরিসংখ্যান তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রথম দফার ভোটে প্রায় ৯৩ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন, যা তৃণমূলের পক্ষেই গেছে বলে তাঁর দাবি। তিনি আরও বলেন, “মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তাদের মুখে ঝামা ঘষে দিয়েছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটের প্রসঙ্গে নারী ভোটারদের ভূমিকাও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, এবারের নির্বাচনে মহিলা ভোট প্রায় ৯৩ শতাংশ, যা তৃণমূলের পক্ষে বড় শক্তি হিসেবে কাজ করছে। তিনি বলেন, “হিন্দু-মুসলমান সবাই একসঙ্গে ভোট দিন, বিভাজনের রাজনীতি করবেন না।”
দ্বিতীয় দফার ভোটকে সামনে রেখে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে সতর্কবার্তাও দেন। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এনআরসি ও ডিটেনশন ক্যাম্প চালুর চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, “বাংলায় এনআরসি বা ডিটেনশন ক্যাম্প করতে দেব না।”
অন্যদিকে, প্রথম দফার আসন পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, যেখানে ভোট হয়েছে সেখানে বিজেপি পিছিয়ে পড়েছে। ২০২১ সালের নির্বাচনের তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাকি ১৪২ আসনের মধ্যেও বিজেপির অবস্থান দুর্বল।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তিনি সকল সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে চলতে বিশ্বাস করেন এবং বিভাজনের রাজনীতির বিরোধী। তাঁর মতে, বিজেপির পতন শুরু হয়ে গেছে এবং বাংলায় শান্তি বজায় থাকবে।



















