ভোটার তালিকা সংশোধনের পর রেশন কার্ডে বড়সড় ছাঁটাই অভিযান, ১৫ জুনের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ

ভোটার তালিকা সংশোধনের পর রেশন কার্ডে বড়সড় ছাঁটাই অভিযান, ১৫ জুনের মধ্যে শেষ করতে নির্দেশ

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর এবার রেশন উপভোক্তাদের তালিকায় বড়সড় ছাঁটাই অভিযানে নামল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ দফতর। সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR)-এর চূড়ান্ত রিপোর্টের ভিত্তিতে ভুয়ো, অযোগ্য এবং অসঙ্গতিপূর্ণ রেশন কার্ড চিহ্নিত করে বাতিল করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ১৫ জুন ২০২৬-এর মধ্যে এই স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।

খাদ্য দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের পর যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে বা যাঁদের তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, তাঁদের ডিজিটাল রেশন কার্ড (DRC) ‘রেশন কার্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ (RCMS) ডাটাবেস থেকে মুছে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এই অভিযানে মূলত পাঁচটি শ্রেণির উপভোক্তাকে চিহ্নিত করা হবে। প্রথমত, যাঁরা অনুপস্থিত (Absentee), স্থানান্তরিত (Shifted), মৃত (Dead) অথবা যাঁদের নাম একাধিকবার নথিভুক্ত (Duplicate) রয়েছে এবং পরবর্তীতে ফর্ম-৬ জমা দিয়ে ভোটার তালিকায় নাম পুনর্নিবন্ধন করেননি। দ্বিতীয়ত, ‘SIR’ প্রক্রিয়া চলাকালীন যাঁদের নাম কোনও বুথের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়নি এবং শুনানির পর যাঁদের আবেদন বাতিল হয়েছে। তৃতীয়ত, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর দ্বিতীয় পর্যায়ের ছাঁটাই তালিকায় যাঁদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। চতুর্থত, বিচারবিভাগীয় বা প্রশাসনিক পর্যালোচনার পর যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে অপসারিত হয়েছে। পঞ্চমত, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন চলাকালীন ভোটার ইনফরমেশন স্লিপ (VIS) বিতরণের সময় যাঁদের অনুপস্থিত, মৃত বা স্থানান্তরিত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

তবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেলেই যে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেশন সুবিধা বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নয়। খাদ্য দফতরের নির্দেশিকায় বিশেষ মানবিক ও আইনি ছাড়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই ‘SIR’ ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন অথবা নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA)-এর আওতায় আবেদন জমা দিয়েছেন, তাঁদের রেশন কার্ড আপাতত বাতিল করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট মামলা বা আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের রেশন কার্ড সক্রিয় অবস্থাতেই থাকবে।

সমগ্র প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নির্ভুল করতে খাদ্য দফতর একটি বিশেষ অনলাইন মডিউল চালু করেছে। এরিয়া ইন্সপেক্টররা নির্বাচন আধিকারিকদের দফতর অথবা সিইও পোর্টাল থেকে বুথভিত্তিক বাদ পড়া ভোটারদের তালিকা সংগ্রহ করবেন। এরপর তাঁরা সরেজমিনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে অথবা অনলাইন পদ্ধতিতে উপভোক্তাদের বর্তমান অবস্থা যাচাই করবেন।

যদি কোনও উপভোক্তা দাবি করেন যে তিনি ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছেন বা সিএএ-র আওতায় আবেদন জমা দিয়েছেন, তবে সংশ্লিষ্ট নথির কপি সংগ্রহ করে অনলাইন পোর্টালে আপলোড করতে হবে। অন্যদিকে, যদি কোনও ব্যক্তি প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন, তাহলে তাঁর ডিজিটাল রেশন কার্ড বাতিলের সুপারিশ করা হবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর সংশ্লিষ্ট ইস্যুয়িং অথরিটি কার্ডটি বাতিল করবে।

খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের স্পেশাল সেক্রেটারি (আইটি অ্যান্ড রিফর্মস) স্বাক্ষরিত এই নির্দেশে বলা হয়েছে, পুরো অভিযান প্রতিদিন পর্যবেক্ষণ করবেন জেলা খাদ্য নিয়ামকরা। তাঁরা নিয়মিতভাবে জেলাশাসক এবং খাদ্য দফতরের ডিরেক্টরেটের কাছে অগ্রগতির রিপোর্ট জমা দেবেন।

নবান্ন সূত্রের দাবি, এই বিশেষ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য হলো রাজ্যের রেশন বণ্টন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, নির্ভুল এবং ত্রুটিমুক্ত করা। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে স্ক্রিনিং প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়াই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top