কলকাতা – কলকাতার ঐতিহ্যবাহী সুরেন্দ্রনাথ কলেজকে ঘিরে বিতর্ক থামার নাম নেই। সম্প্রতি কলেজের পাঁচতলার বিতর্কিত ‘শোয়ার ঘর’ এবং ইউনিয়ন রুমের আলমারি থেকে সুটকেস ভর্তি টাকা উদ্ধারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার চারতলাকে কেন্দ্র করে নতুন করে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, চারতলার বিভিন্ন ক্লাসরুম ও ফাঁকা ঘরে বহিরাগতদের অবাধ যাতায়াত ছিল এবং সেখানে এক ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপ চলত বলে দাবি করেছেন একাংশ পড়ুয়া।
পড়ুয়াদের অভিযোগ অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই প্রথম বর্ষের কিছু ছাত্রীকে লক্ষ্য করে একটি চক্র সক্রিয় ছিল, যেখানে পরিচিতি বাড়ানোর অজুহাতে সম্পর্ক তৈরি করা হতো এবং পরে মানসিক চাপ ও হুমকির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হতো। অভিযোগ আরও, প্রতিবাদ করলে ব্যক্তিগত ছবি ছড়িয়ে দেওয়ার মতো হুমকি দেওয়া হত। এক ছাত্রী দাবি করেন, এই ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে কথা বলার চেষ্টা করলে বিষয়টি সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই অভিযোগগুলির সত্যতা এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
একই সঙ্গে কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে কাটমানি ও অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। পড়ুয়াদের একাংশের দাবি, কেন্দ্রীয় অনলাইন ভর্তি পোর্টাল থাকা সত্ত্বেও কিছু আসন ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রেখে মোটা অঙ্কের টাকা নেওয়া হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, এক বিভাগে ভর্তির জন্য ৬০ হাজার টাকা এবং অন্য ক্ষেত্রে দেড় লক্ষ টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন কয়েকজন ছাত্রছাত্রী। তবে প্রশাসনিক বা আইনি স্তরে এই অভিযোগগুলির কোনও আনুষ্ঠানিক প্রমাণ এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।
এই পরিস্থিতিতে বুধবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ দেখায় অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (ABVP)। সংগঠনের পক্ষ থেকে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়ে ছাত্র সংসদের তহবিলের অডিট, স্বচ্ছতা এবং ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বহিরাগত নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, পরিস্থিতি সামাল দিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে। পাশাপাশি বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে চিপযুক্ত পরিচয়পত্র এবং ভিজিটর স্লিপ চালুর প্রাথমিক পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। কলেজ পরিচালন সমিতির সরকারি প্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। পুরো ঘটনায় ক্যাম্পাসের পরিবেশ উত্তপ্ত এবং প্রশাসনিক স্তরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।




















