কলকাতা
দার্জিলিংয়ে রোপওয়ে থেকে কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে গঙ্গার নীচ দিয়ে পণ্য পরিবহণের টানেল—বাংলায় পরিকাঠামো ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে আদানি গোষ্ঠী। নিউটাউনে আদানি আরোগ্য মন্দিরের শিলান্যাসের পর এবার নজরে তারাতলা-সাঁকরাইলের প্রস্তাবিত আন্ডারওয়াটার সড়ক টানেল প্রকল্প। নবান্ন সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাম্প্রতিক বৈঠকে এই প্রকল্পে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন শিল্পপতি গৌতম আদানি।
সূত্রের দাবি, কলকাতা সফরে এসে ‘সৌজন্য’ ভবনে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন গৌতম আদানি ও তাঁর প্রতিনিধিরা। সেখানে গঙ্গার নীচ দিয়ে সড়ক টানেল তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রকল্পের প্রস্তাব এবং তার সম্ভাব্য ব্যবহার সম্পর্কে রাজ্য সরকারের তরফে ব্যাখ্যা দেওয়ার পর, দরপত্র আহ্বান করা হলে তাতে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে আদানি গোষ্ঠী বলে খবর। তবে প্রকল্পে কত টাকা বিনিয়োগ করা হতে পারে, কিংবা কী ধরনের অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তারা যুক্ত হতে চাইছে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট তথ্য সামনে আসেনি।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর নিউটাউনে আদানি আরোগ্য মন্দিরের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে গৌতম আদানি ২০৩৫ সালের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে এক লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। আদানি গোষ্ঠীর প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, বন্দর, পণ্য পরিবহণ, বিদ্যুৎ, সড়ক, সেতু, রোপওয়ে এবং ডেটা সেন্টারের মতো একাধিক ক্ষেত্রে বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বাংলার পরিকাঠামো প্রকল্পগুলিতে গোষ্ঠীর আগ্রহের দিকে নজর রাখছে শিল্পমহল।
তারাতলা-সাঁকরাইলের প্রস্তাবিত টানেল প্রকল্পের মূল লক্ষ্য কলকাতা বন্দরে আসা এবং বন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়া ট্রাক ও কন্টেনারবাহী গাড়ির জন্য বিকল্প পথ তৈরি করা। বর্তমানে এই ধরনের ভারী যানবাহনকে শহরের ব্যস্ত রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। গঙ্গার নীচ দিয়ে সড়ক যোগাযোগ তৈরি করা গেলে কলকাতা ও হাওড়ার মধ্যে পণ্য পরিবহণ আরও সহজ হতে পারে। পাশাপাশি শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে যানজট কমানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে এত বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সম্ভাব্যতা, নির্মাণব্যয়, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনের মতো একাধিক বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। আদানি গোষ্ঠী আগ্রহ দেখালেও প্রকল্পের চূড়ান্ত রূপরেখা, দরপত্র প্রক্রিয়া কিংবা নির্মাণের সময়সীমা নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।
নিউটাউনের হাসপাতাল প্রকল্পের পাশাপাশি বাংলার বিভিন্ন পরিকাঠামো ক্ষেত্রে আদানি গোষ্ঠীর আগ্রহ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার তারাতলা-সাঁকরাইল টানেল প্রকল্পে সেই আগ্রহ বাস্তব বিনিয়োগের পর্যায়ে পৌঁছয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।




















