কলকাতা
দলত্যাগ বিরোধী আইনে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ‘গণতান্ত্রিক তৃণমূল’-এর ১০ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের আবেদন খারিজ করে দিলেন বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসু। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা ওই পিটিশনের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিধানসভায় শুনানি হয়। শুনানির পর পেশ করা নথিতে আইনি পদ্ধতি মেনে ভেরিফিকেশন না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে আবেদন খারিজ করেন স্পিকার বলে জানা গিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল শিবিরের পক্ষে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় ভারতীয় সংবিধানের দশম তফসিলের আওতায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়, বিপ্লব মিত্র, ফিরহাদ হাকিম, আখরুজ্জামান-সহ মোট ১০ জন বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের দাবি জানিয়েছিলেন। অভিযোগ ছিল, দলীয় অবস্থান থেকে সরে গিয়ে পৃথক গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় তাঁদের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন প্রয়োগ করা উচিত।
শুনানিতে ঋতব্রতদের পক্ষের আইনজীবীরা পিটিশনের সঙ্গে জমা দেওয়া নথির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁদের বক্তব্য, ১৯৮৬ সালের সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী যে পদ্ধতিতে নথি যাচাই ও প্রত্যয়ন করা প্রয়োজন, তা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। নথিতে স্বাক্ষর থাকলেও আইনি নিয়ম মেনে ভেরিফিকেশন করা হয়নি—স্পিকারের নির্দেশে এমন ত্রুটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
এই পদ্ধতিগত ত্রুটির ভিত্তিতেই পিটিশন খারিজ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ফলে আবেদনকারীদের দাবি অনুযায়ী ১০ বিধায়কের সদস্যপদ খারিজের প্রশ্নে এই পিটিশনের ভিত্তিতে কোনও পদক্ষেপ হল না। তবে আবেদন খারিজের অর্থ দলত্যাগ সংক্রান্ত সমস্ত বিতর্কের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কি না, তা নির্ভর করবে স্পিকারের নির্দেশের বিস্তারিত এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের উপর।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে তৃণমূলের দুই শিবিরের টানাপোড়েনের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টেও আবেদন জানানো হয়েছিল। আদালত স্পিকারের সাংবিধানিক ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে দলত্যাগ সংক্রান্ত আবেদনগুলির সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে যুক্তিসঙ্গত সময়সীমার গুরুত্ব তুলে ধরেছিল।
এখন স্পিকারের নির্দেশের বিস্তারিত সামনে আসার পর দুই পক্ষের পরবর্তী অবস্থান কী হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। প্রয়োজনে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন করে আইনি পদক্ষেপ করা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।



















