জিএসটি আইনে বড় বদল, কর আধিকারিকদের গ্রেফতারির ক্ষমতা প্রত্যাহার; ফৌজদারি মামলার সীমা বাড়ল ১ কোটি থেকে ৫ কোটি

জিএসটি আইনে বড় বদল, কর আধিকারিকদের গ্রেফতারির ক্ষমতা প্রত্যাহার; ফৌজদারি মামলার সীমা বাড়ল ১ কোটি থেকে ৫ কোটি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



নয়াদিল্লি

জিএসটি ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের পথে কেন্দ্র। করদাতাদের উপর আইনি চাপ কমানো এবং কর ব্যবস্থাকে আরও সহজ করার লক্ষ্যে বড়সড় পরিবর্তনের সুপারিশ করেছে জিএসটি কাউন্সিল। বৃহস্পতিবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের ৫৭তম বৈঠকে কর আধিকারিকদের গ্রেফতারির ক্ষমতা প্রত্যাহার, ফৌজদারি বিচারের আর্থিক সীমা বৃদ্ধি এবং সাধারণ জরিমানার অঙ্ক কমানোর মতো একাধিক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে। এই সংস্কারগুলিকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর মতে, এর ফলে জিএসটি ব্যবস্থা আরও সহজ ও স্বচ্ছ হয়ে উঠবে।

জিএসটি কাউন্সিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ হল, জিএসটি আইনের অধীনে কর আধিকারিকদের গ্রেফতার করার ক্ষমতা প্রত্যাহার করা। পাশাপাশি, জিএসটি সংক্রান্ত অপরাধে ফৌজদারি মামলা শুরু করার আর্থিক সীমা ১ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তুলনামূলক কম অঙ্কের কর সংক্রান্ত অনিয়মের ক্ষেত্রে ফৌজদারি বিচারের আওতা সীমিত হবে। তবে এর অর্থ এই নয় যে কর ফাঁকি বা অনিয়মের ক্ষেত্রে সব ধরনের ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে; বকেয়া কর আদায়, সুদ এবং প্রযোজ্য জরিমানার ব্যবস্থা বহাল থাকবে।

জরিমানার ক্ষেত্রেও পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে যে সব ক্ষেত্রে সাধারণ জরিমানার অঙ্ক ২৫ হাজার টাকা, তা কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছে কাউন্সিল। পাশাপাশি, বিভিন্ন অপরাধে শাস্তির পরিমাণ আরও যুক্তিসংগত করার বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। কোন ক্ষেত্রে কী ধরনের শাস্তি হবে, তা নির্ধারণে আদালতের বিবেচনাকেও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

শুধু গ্রেফতারি বা জরিমানার নিয়মেই পরিবর্তন নয়, জিএসটি সংক্রান্ত নোটিস ও শুনানির প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ১০ হাজার টাকা বা তার কম অঙ্কের বিষয়ে নোটিস না পাঠানোর সুপারিশ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই সীমার নীচে পাঠানো কিছু নোটিস প্রত্যাহারের কথাও জানিয়েছে কেন্দ্রীয় অর্থ মন্ত্রক। পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য ও অনুমোদনের ভিত্তিতে যানবাহন আটকানোর নিয়ম আরও স্পষ্ট করার প্রস্তাব রয়েছে।

এই সংস্কারগুলির উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করা, করদাতাদের হয়রানি কমানো এবং জিএসটি ব্যবস্থায় আস্থা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে। তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, কাউন্সিলের এই সুপারিশগুলি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধন ও পরবর্তী সরকারি পদক্ষেপ লাগবে। অর্থাৎ, সুপারিশ ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই সব পরিবর্তন কার্যকর হয়ে যাচ্ছে, এমন নয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই সংস্কারগুলিকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে দেশের জিএসটি ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়েছেন, ৫৭তম বৈঠকে জিএসটি হারে কোনও পরিবর্তন করা হয়নি। আপাতত করের হার অপরিবর্তিত রেখে নিয়মকানুন, রিফান্ড এবং করদাতাদের পরিষেবা সহজ করার দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top