জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় আকাশবাণী ভবনের সামনে রাহুলের ধর্না, ‘লড়াই আরও জোরদার হবে’ বার্তা

জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা না হওয়ায় আকাশবাণী ভবনের সামনে রাহুলের ধর্না, ‘লড়াই আরও জোরদার হবে’ বার্তা

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



নয়াদিল্লি

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাতের দাবিতে দিল্লিতে সরব হলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। নির্বাচন কমিশনের দফতরের দিকে INDIA জোটের সাংসদদের মিছিল পুলিশ আটকে দেওয়ার পর আকাশবাণী ভবনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন রাহুল-সহ বিরোধী নেতারা। সেখান থেকেই নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন আরও জোরদার করার বার্তা দেন তিনি।

রাহুল গান্ধীর দাবি, প্রায় ৩০০ জন বিরোধী সাংসদ দেশের মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। তাঁদের জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে ভোটার তালিকা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে নিজেদের অভিযোগ জানাতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। রাহুলের বক্তব্য, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এভাবে আটকে দেওয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি অসম্মান।

আকাশবাণী ভবনের সামনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাহুল বলেন, বিরোধীরা শুধু মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে চান। তাঁদের প্রশ্নের জবাব না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।

তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে বিরোধীদের অভিযোগের পাল্টা বক্তব্যও সামনে এসেছে। কমিশন জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত কোনও রাজনৈতিক দল বা যৌথ প্রতিনিধিদলের তরফে নিয়মমাফিক সাক্ষাতের আবেদন তারা পায়নি। পরে দিল্লি পুলিশের মাধ্যমে সাংসদদের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে চায় বলে কমিশন জানতে পারে। কমিশনের দাবি, নির্দিষ্ট প্রোটোকল অনুযায়ী রাজনৈতিক দল বা যৌথ প্রতিনিধিদলকে অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে আগে থেকে সাক্ষাতের সময় চাইতে হয়।

এই দাবি অবশ্য মানতে নারাজ বিরোধীরা। তাঁদের বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার জন্য তাঁরা এসেছিলেন এবং পুলিশ তাঁদের পথ আটকে দেয়। এরপরই আকাশবাণী ভবনের সামনে দীর্ঘক্ষণ ধর্নায় বসেন বিরোধী সাংসদরা।

প্রতিবাদ ঘিরে দিল্লিতে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী-সহ একাধিক বিরোধী নেতাকে পুলিশ আটক করে। কয়েক ঘণ্টার অবস্থান বিক্ষোভের পর তাঁদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

SIR এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অভিযোগকে কেন্দ্র করেই মূলত এই সংঘাত তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে ‘ভোট চুরি’ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে নিয়ম মেনেই প্রক্রিয়া চলার কথা জানিয়েছে।

আকাশবাণী ভবনের ধর্না থেকে রাহুল গান্ধীর বার্তা, এই আন্দোলন এখানেই থামছে না। জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং তাঁদের প্রশ্নের জবাব না পাওয়া পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিরোধীদের রাজনৈতিক চাপ ও প্রতিবাদ আরও চলবে বলেই জানিয়েছেন তিনি।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top