রায়গঞ্জ: রাজ্যে অপরাধ দমনে উত্তরপ্রদেশের মডেল কার্যকর করার কথা বারবারই বলে থাকেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যে পালাবদলের পর বারুইপুর, গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে পুলিশি এনকাউন্টারের ঘটনা ঘিরে সেই প্রসঙ্গ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এই পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনই অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার রায়গঞ্জের সভা থেকেও নারী নির্যাতন ও অপরাধ দমনে কড়া অবস্থানের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
সম্প্রতি গাইঘাটা ও সামশেরগঞ্জে পুলিশের এনকাউন্টারের ঘটনার প্রেক্ষিতে শুভেন্দুর বক্তব্য, মা-বোনেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশকে সম্পূর্ণ ‘খোলা হাত’ দেওয়া হয়েছে। নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, গণধর্ষণ কিংবা শ্লীলতাহানির মতো অপরাধের ক্ষেত্রে কোনওরকম রেয়াত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “যা করার করব, নিশ্চিন্ত থাকুন। মা-বোনেরা, পুলিশকে খোলা হাত দিয়ে এসেছি। কেউ যদি ধর্ষণ, গ্যাংরেপ, শ্লীলতাহানির মতো কোনও কাজ করে, তাহলে পুলিশ যা দরকার তাই করবে।”
নারীশক্তির মর্যাদা এবং ভারতীয় সংস্কৃতিতে মাতৃশক্তির গুরুত্বের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তিনি। বেলুড় মঠে অষ্টমীর দিন স্বামী বিবেকানন্দের কুমারী পুজোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা কেউ ভারতপিতা বলি না, ভারতমাতা বলি।”
এরপর আরও কড়া বার্তা দিয়ে শুভেন্দু বলেন, “মা, বোন ও কন্যাদের যারা অসম্মান করবে, তাদের পরিণতি কী হচ্ছে তা সবাই দেখতে পাচ্ছে। সামাজদার কা তো ইশারাই কাফি হ্যায়। পুলিশ মন্ত্রী তো এর থেকে বেশি কিছু বলবে না। আপনারা সবাই সজাগ থাকবেন।”
উত্তরপ্রদেশে এনকাউন্টার-নির্ভর পুলিশি পদক্ষেপে অপরাধ কতটা কমেছে, তা নিয়ে অবশ্য প্রশ্ন রয়েছে। বাংলাতেও এই ধরনের পদক্ষেপ অপরাধীদের মধ্যে কতটা ভয়ের পরিবেশ তৈরি করবে, তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। তবে নারী নির্যাতন ও অপরাধ দমনে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের পক্ষেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।




















