কাঠমান্ডু: ভোটেকোশীর বিপর্যয়ের দু’মাস কাটতে না কাটতেই ফের হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল। রবিবার সকালে মধ্য নেপালের বুধি গণ্ডকী নদীতে আচমকা জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভেসে গিয়েছে একাধিক বাড়িঘর, ভেঙে পড়েছে সেতু এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ব্যবস্থা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গোরখা অঞ্চলের পাহাড়ে ধসের জেরে নদীর গতিপথে একটি অস্থায়ী হ্রদ তৈরি হয়েছিল। শনিবার রাতে তৈরি হওয়া ওই হ্রদ রবিবার সকালে জলের চাপে ভেঙে পড়ে। এর ফলে প্রবল গতিতে নেমে আসে জল, কাদা ও পাথরের স্রোত। আচমকা এই হড়পা বানে এখনও পর্যন্ত ৩৫টি বাড়ি ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। ভেঙে পড়েছে একটি লোহার সেতু এবং দুটি ঝুলন্ত সেতুও।
এই বিপর্যয়ের জেরে গোরখা ও পার্শ্ববর্তী ধাদিং জেলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হয়েছে। কাদা ও ধ্বংসাবশেষ মেশানো প্রবল স্রোতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কাঠমান্ডুর সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান সড়কের কাছের আরুঘাট এলাকার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের ইতিমধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সরকারি আধিকারিকদের দাবি, এখনও পর্যন্ত কোনও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি। তবে নদীর জলস্তর ক্রমাগত বাড়তে থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলিকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। আরও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে নদীর আশপাশের বিপজ্জনক এলাকাগুলি থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি ও বিভিন্ন নির্মাণ ভেসে যাচ্ছে। ফের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে নেপালের পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। উদ্ধারকাজ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন।




















