কলকাতা: পড়ুয়ারা কতটা শিখছে, তার দায় নিতে হবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককেই। বছর শেষে পড়ুয়াদের শেখার অগ্রগতি সন্তোষজনক না হলে তার ব্যাখ্যাও দিতে হতে পারে শিক্ষককে। এমনকী পরবর্তী ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার ক্ষেত্রেও তাঁকে জবাবদিহি করতে হতে পারে। আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক স্তরে এই ব্যবস্থা চালুর ভাবনাচিন্তা করছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি প্রাথমিক স্কুলে আলাদা আলাদা বিষয়ের জন্য পৃথক শিক্ষক না রেখে, একজন শিক্ষককেই সব বিষয় পড়ানোর দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
বৃহস্পতিবার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে প্রশাসনিক, পরিকাঠামো এবং পঠনপাঠন সংক্রান্ত একটি বৈঠকে এই ভাবনার কথা জানান স্কুলশিক্ষামন্ত্রী দীপক বর্মন। প্রাথমিক শিক্ষায় শিক্ষক-পিছু পড়ুয়ার অনুপাত কমানো, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনা এবং প্রশাসনিক দুর্নীতি রুখতে একাধিক পদক্ষেপের নির্দেশ দেন তিনি। ইংরেজি মাধ্যমের স্কুল চালুর আবেদন নিয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।
বৈঠকে শিক্ষক-পড়ুয়া অনুপাত নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। মন্ত্রীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে প্রতি ২৬ জন পড়ুয়া-পিছু একজন শিক্ষক রয়েছেন। মাধ্যমিক স্তরে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। সেখানে প্রতি ৫০ থেকে ৬২ জন পড়ুয়া-পিছু রয়েছেন একজন শিক্ষক।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, প্রাথমিক স্তরে অন্তত ১৩ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হলে শিক্ষক-পড়ুয়ার অনুপাত কমে প্রতি ২০ জন পড়ুয়া-পিছু একজন শিক্ষক হতে পারে। মাধ্যমিক স্তরেও এই অনুপাত কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষার গুণগত মান উন্নত করা এবং পড়ুয়াদের শেখার অগ্রগতি নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপগুলির কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। তবে শিক্ষকদের মূল্যায়ন ও ইনক্রিমেন্টের সঙ্গে পড়ুয়াদের শেখার অগ্রগতিকে যুক্ত করার প্রস্তাব বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।




















