দক্ষিন 24 পরগণা – রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে দেখা যায়নি ফলতার তৃণমূল প্রার্থী Jahangir Khan-কে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি, তার আগেই শুক্রবার ফের প্রকাশ্যে এলেন তিনি। ঢুকলেন নিজের দলীয় কার্যালয়েও। আর সামনে দাঁড়িয়েই ‘পুষ্পা’ স্টাইলে বার্তা দিলেন, “ফলতার মানুষের উপর বিশ্বাস রয়েছে। মানুষ যা রায় দেবেন, সেই রায় মাথা পেতে নেব।”
শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে বেরিয়ে শ্রীরামপুরে নিজের দলীয় কার্যালয়ে যান জাহাঙ্গির খান। গত ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন এই অফিস থেকেই ভোট পরিচালনা করেছিলেন তিনি। বিজেপি রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর ওই অফিসে ভাঙচুর চালিয়ে বিজেপির পতাকা লাগানোর অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনার পর দীর্ঘ সময় তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ফলে তাঁর এই প্রত্যাবর্তন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
এতদিন কোথায় ছিলেন, সেই প্রশ্নের উত্তরে জাহাঙ্গিরের দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ব্যবহার করে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যে মামলা দেওয়া হচ্ছে। তাই এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই তিনি প্রকাশ্যে আসেননি। তাঁর কথায়, “পুলিশ আমাকে বাড়িতে ফিরিয়ে দিয়েছে, এটা ডাহা মিথ্যে কথা। আমি বাড়িতেই ছিলাম। অশান্তি এড়াতেই প্রকাশ্যে আসিনি।”
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আগামী ২১ মে ফলতায় পুনর্নির্বাচন হবে এবং ২৪ মে ফল প্রকাশ। এর মধ্যেই রাজ্যে তৃণমূলকে সরিয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি সরকার। নতুন মুখ্যমন্ত্রী Suvendu Adhikari শনিবার ডায়মন্ড হারবারে প্রশাসনিক বৈঠকের পর ফলতায় কর্মিসভা করবেন। ১৯ মে সেখানে তাঁর রোড শো হওয়ার কথাও রয়েছে। ফলে এলাকায় বিজেপি কর্মীদের উৎসাহ তুঙ্গে।
এই আবহে জাহাঙ্গির খান ফের নিজের পুরনো অবস্থানেই অনড় থাকার বার্তা দিয়েছেন। ভোটের আগে পুলিশ পর্যবেক্ষক Ajay Pal Sharma-র সতর্কতার পরও তিনি বলেছিলেন, “পুষ্পা ঝুঁকেগা নেহি।” সেই প্রসঙ্গ টেনে এবারও তাঁর দাবি, যদি ভয় পেতেন, তবে আগের ভোটই করাতে পারতেন না। তিনি বলেন, “মানুষ আমাকে ভোট দিয়েছিলেন। সেই ইভিএম খুলে গোনা হোক। ২০১৭ সালের মিথ্যে মামলায় আমাকে জড়ানো হয়েছে। এসব কি নিরপেক্ষ ভোটের উদাহরণ?”
জাহাঙ্গিরের আরও দাবি, ফলতার মানুষ এতদিন ভয় পেতেন বলেই ভোট দিতে পারতেন না— বিজেপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যে। তাঁর বক্তব্য, “স্থানীয় কোনও নেতা ভুল করতে পারে, কিন্তু ফলতার একজন মানুষও বলতে পারবেন না আমি তাঁদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছি। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থেকেছি। উন্নয়ন করেছি। মানুষ সুযোগ দিলে আরও উন্নয়ন করব।”
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে গিয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এলাকায় এখন বিজেপির প্রভাব অনেক বেশি। তৃণমূলের বহু কর্মী ঘরছাড়া বলেও অভিযোগ উঠছে। সেই প্রসঙ্গে জাহাঙ্গির বলেন, আদালত ঘরছাড়াদের ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছে এবং তাঁরাও কর্মীদের ঘরে ফেরার বার্তা দিচ্ছেন। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা। আমি ফলতার ভূমিপুত্র। মানুষ আমার সঙ্গে আছেন, থাকবেনও।”
এদিকে বিজেপি নেতা Bidhan Parui জাহাঙ্গির খানের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পত্তির তদন্ত চেয়ে ইডিকে চিঠি দিয়েছেন। সেই অভিযোগকে ‘ভয় দেখানোর চেষ্টা’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জাহাঙ্গির। তাঁর দাবি, বিষয়টি আগেই আদালতে গিয়েছিল এবং আদালত সেই মামলার নিষ্পত্তিও করে দিয়েছে।


















