রাজ্য – সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি পরিষেবা আরও দ্রুত ও সহজলভ্য করে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। সোমবার থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ও ব্লকে শুরু হচ্ছে ‘জন কল্যাণ শিবির’। নতুন সরকার গঠনের পর এটিই প্রথম বৃহৎ জনমুখী কর্মসূচি, যার মাধ্যমে সরাসরি সাধারণ মানুষের কাছে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার থেকে বুধবার পর্যন্ত রাজ্যের সর্বত্র এই বিশেষ শিবিরগুলির আয়োজন করা হবে। একই ছাদের নিচে একাধিক সরকারি প্রকল্পের তথ্য, আবেদন গ্রহণ এবং প্রাথমিক যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন দফতরে আলাদা আলাদা করে ঘুরতে হবে না বলে মনে করছে প্রশাসন।
সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যের অভাব বা প্রশাসনিক জটিলতার কারণে যাঁরা এতদিন বঞ্চিত ছিলেন, তাঁদের জন্য এই শিবির বিশেষ সহায়ক হবে। প্রতিটি শিবিরে বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন এবং সরাসরি আবেদন গ্রহণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য ও শিক্ষার ক্ষেত্রে আয়ুষ্মান ভারত স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড এবং আধার এনরোলমেন্ট ও সিডিংয়ের সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ-র আওতায় আবেদন করার সুযোগও থাকবে।
ভূমি ও শ্রম সংক্রান্ত পরিষেবার ক্ষেত্রেও একাধিক সুবিধা দেওয়া হবে। জমির রেকর্ড মিউটেশন, রেকর্ড সংশোধন, পাট্টার আবেদন, ই-শ্রম কার্ড, প্রধানমন্ত্রী শ্রম যোগী মানধন, সামাজিক সুরক্ষা যোজনা এবং পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ সংক্রান্ত প্রকল্পে আবেদন করা যাবে।
নারী ও শিশু কল্যাণের জন্য সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা, কন্যাশ্রী, বেটি বাঁচাও বেটি পড়াও এবং অন্নপূর্ণা যোজনার মতো প্রকল্পগুলির সুবিধা মিলবে। কৃষকদের জন্য পিএম কিসান সম্মান নিধি, কিসান ক্রেডিট কার্ড এবং মাটির স্বাস্থ্য কার্ডের আবেদন গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের জন্য পিএম-মৎস্য কিসান সমৃদ্ধি সহ-যোজনার সুবিধাও থাকবে।
আর্থিক ও খাদ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রেও একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী জনধন যোজনা, জীবন জ্যোতি বিমা, সুরক্ষা বিমা, অটল পেনশন যোজনা, প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা এবং প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনার আবেদন গ্রহণ করা হবে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনিক তৎপরতা ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সিনিয়র আইএএস আধিকারিকদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা সংশ্লিষ্ট জেলায় পৌঁছে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখেছেন এবং শিবিরগুলির কার্যক্রম সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রয়োজনে বুধবার পর্যন্ত এই তদারকি চলবে বলে জানা গিয়েছে।
সরকারের আশা, এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগ আরও মজবুত হবে এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।




















