কলকাতা:
সাধারণ নাগরিকদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার খর্ব করা হচ্ছে—বিজেপির বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করতে ভয় দেখানো এবং পুলিশ ও প্রশাসনকে ব্যবহার করে চাপ তৈরির রাজনীতি করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
লক্ষ্মীপুজোর দিন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরে বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূলের নেতা-কর্মী থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধিদেরও পুলিশ ও প্রশাসনের নাম করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বিরোধীদের স্বাধীনভাবে কথা বলা ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার খর্ব করতেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে দাবি তাঁর।
নিজের বক্তব্যে সংবিধানের ১৪, ১৯ ও ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদে আইনের চোখে সমতা, ১৯ নম্বর অনুচ্ছেদে বাক্স্বাধীনতা-সহ বিভিন্ন স্বাধীনতা এবং ২১ নম্বর অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এই অধিকারগুলি রক্ষার প্রশ্নেই বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন তিনি।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মতপ্রকাশের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্বাধীনভাবে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরার আহ্বান জানান মমতা। তাঁর বক্তব্য, ছাত্র-যুব সমাজ এবং সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহারকারীরা স্বাধীন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে তুলছেন। স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি সেন্সরশিপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দেন।
বিজেপির বিরুদ্ধে চাপ সৃষ্টি করে রাজনীতি করার অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জও ছুড়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ক্ষমতা বা সাহস থাকলে রাজনৈতিকভাবে লড়াই করুক বিজেপি। রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার ময়দানে লড়াই করতে তাঁদের কোনও আপত্তি নেই বলেও জানান তিনি।




















