রাজ্য – ক্ষুদ্র উদ্যোগপতি ও চাষিদের আরও লাভবান করতে এবং পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কমাতে এবার স্থানীয় স্তরেই কর্মসংস্থান তৈরির উপর জোর দিল রাজ্য সরকার। নিজের এলাকা ছেড়ে কাজের জন্য আর ভিনরাজ্যে যেতে হবে না, স্থানীয় ভাবেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে—এমনই পরিকল্পনার কথা জানালেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর মতে, ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা গেলে এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং পরিযায়ী শ্রমিকের প্রবণতাও কমবে।
শুক্রবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে রবীন্দ্রভবনে ‘স্বাবলম্বী ভারত অভিযান’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘উদ্যামিতা সম্মেলন-২০২৬’-এ যোগ দেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। সেখানেই ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসার এবং কর্মসংস্থান তৈরির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ছোট শিল্প ও স্থানীয় উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোগপতি এবং চাষিদের সঙ্গে যুক্ত করে স্থানীয় অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে। এলাকায় শিল্প ও কাজের সুযোগ তৈরি হলে যুবকদের আর কাজের সন্ধানে অন্য রাজ্যে পাড়ি দিতে হবে না। নিজের এলাকাতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং সেই সঙ্গে বাড়বে কর্মসংস্কৃতি।
সুন্দরবন-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক এলাকা থেকে দীর্ঘদিন ধরেই বহু যুবক কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দেন। স্থানীয় স্তরে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকাই এর অন্যতম কারণ বলে মনে করেন ওয়াকিবহাল মহলের একাংশ। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই ক্ষুদ্র শিল্প ও স্থানীয় উদ্যোগের উপর জোর দেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে আসছে বিজেপি সরকার। এবার সেই লক্ষ্যেই ক্ষুদ্র শিল্পের প্রসার, স্থানীয় উদ্যোগপতিদের উৎসাহ দেওয়া এবং কৃষির সঙ্গে শিল্পের সমন্বয়ের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা সামনে এল।
বারুইপুরের উদ্যামিতা সম্মেলন থেকে মন্ত্রীর এই বার্তা ঘিরে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে ক্ষুদ্র উদ্যোগপতি ও স্থানীয় যুবকদের মধ্যে। এখন পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং স্থানীয় এলাকায় কতটা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।


















