ভোটের মুখে ফের ইডির হানা, কলকাতায় দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতে একযোগে তল্লাশি

ভোটের মুখে ফের ইডির হানা, কলকাতায় দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতে একযোগে তল্লাশি

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


কলকাতা – West Bengal Assembly Election 2026-এর দ্বিতীয় দফার ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে ফের সক্রিয় হল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি (ED)। রবিবার সকাল থেকেই কলকাতার দুই পৃথক স্থানে একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি। বাইপাস সংলগ্ন আনন্দপুরে এক ব্যবসায়ীর বাড়ি এবং আলিপুরে আরও এক ব্যবসায়ীর ঠিকানায় হানা দেন তদন্তকারীরা।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, কুখ্যাত দুষ্কৃতী সোনা পাপ্পু (Sona Pappu)-র সঙ্গে যোগসূত্র থাকার অভিযোগেই এই অভিযান চালানো হচ্ছে। জমি দুর্নীতি ও আর্থিক জালিয়াতির মামলায় তার নাম জড়িয়েছে বলেই তদন্ত সূত্রে জানা গিয়েছে। গোলপার্ক এলাকায় গুলিকাণ্ডের পর থেকেই সে পলাতক বলে দাবি করা হচ্ছে। তার ঘনিষ্ঠ কিছু ব্যবসায়ীর আর্থিক লেনদেন নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়াতেই এই তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ইতিমধ্যেই এই মামলায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের পরই আনন্দপুর ও আলিপুরের দুই ব্যবসায়ীর নাম উঠে আসে। সেই সূত্র ধরেই রবিবার সকালে দুই জায়গায় একযোগে তল্লাশি শুরু হয়। এই দুই ব্যবসায়ী ঠিক কীভাবে আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত, তা খতিয়ে দেখছেন ইডির আধিকারিকরা।
এর আগেও সোনা পাপ্পুর বাড়িতে তল্লাশির সময় একটি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছিল বলে জানা যায়, যা তদন্তকে আরও জটিল করে তোলে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, দ্বিতীয় দফার ভোটে ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে ২৯ এপ্রিল। তার ঠিক আগে এই ধরনের কেন্দ্রীয় এজেন্সির সক্রিয়তা রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এদিকে শুধু এই মামলাই নয়, অন্য একাধিক আর্থিক দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের কয়েকজন নেতা-প্রার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছে ইডি। এর মধ্যে রয়েছেন দেবাশিস কুমার ও সুজিত বোসের মতো নামও।
অন্যদিকে শনিবারই রেশন দুর্নীতি মামলায় উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় হানা দেয় ইডি। ওই মামলায় প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নাম জড়িয়েছে, যিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী।
এই পরপর ইডি অভিযানে রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, ভোটের আগে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও বিরোধীদের দাবি, তদন্ত সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই চলছে এবং এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই।
সব মিলিয়ে ভোটের মুখে ইডির এই ধারাবাহিক অভিযান রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top