কলকাতা – সোমবার ভোরে ফের অগ্নিকাণ্ডে চাঞ্চল্য ছড়াল কলকাতায়। কলকাতা বিমানবন্দরের কাছে যশোর রোড সংলগ্ন বাঁকড়া এলাকায় একটি গাড়ির শোরুম ও সার্ভিস সেন্টারে ভয়াবহ আগুন লাগে। ভোরের আলো ফোটার আগেই মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে একের পর এক গাড়িতে। আগুনের গ্রাসে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায় অন্তত ২২টি গাড়ি। আরও আটটি গাড়ি আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে দূর থেকেই দেখা যায় কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের পাঁচটি ইঞ্জিন। আগুনের ভয়াবহতা বুঝতে পেরে পরে আরও তিনটি ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে আনা হয়। মোট আটটি দমকলের ইঞ্জিন দীর্ঘক্ষণ ধরে চেষ্টা চালানোর পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রাথমিকভাবে দমকলের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে আগুন লাগল এবং কীভাবে এত দ্রুত তা ছড়িয়ে পড়ল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন শোরুম ও সার্ভিস সেন্টারে গাড়ি রাখা মালিকরা। তাঁদেরই একজন জানান, ফোনে আগুন লাগার খবর পেয়েই তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সার্ভিস সেন্টারে মেরামতির জন্য দেওয়া তাঁর বাণিজ্যিক গাড়িটিও তখন দাউদাউ করে জ্বলছিল। তাঁর অভিযোগ, দমকলকর্মীরা যখন কারখানার অন্যদিকে আগুন নেভানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন, ততক্ষণে তাঁর গাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
ওই গাড়ির মালিকের কথায়, গাড়ি সারানোর জন্য সার্ভিস সেন্টারে দিয়ে এত বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে, তা তিনি কল্পনাও করতে পারেননি। নতুন গাড়িটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। এখন কীভাবে এবং কার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে, সেই প্রশ্নই তাঁর সামনে। অগ্নিকাণ্ডে বিপুল সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।




















