নয়াদিল্লি, ভারত
আমেরিকার চাপে নয়, বরং দেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই অপরিশোধিত তেল আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনছে ভারত। এমনই মন্তব্য করলেন মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও। তিন দিনের ভারত সফরে এসে ‘ইন্ডিয়া টুডে’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, জ্বালানির জন্য কোনও একটি নির্দিষ্ট দেশের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা যে কোনও রাষ্ট্রের পক্ষেই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
রুবিওর বক্তব্য, জ্বালানি সরবরাহে কোনও আকস্মিক বিপর্যয় দেখা দিলে তার প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার উপর পড়তে পারে। সেই ঝুঁকি এড়াতেই ভারত বিচক্ষণতার সঙ্গে নিজেদের জ্বালানি আমদানির উৎস আরও বিস্তৃত করেছে। তাঁর মতে, কোনও হুমকি বা চাপের কারণে নয়, বরং নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও উন্নয়নের কথা মাথায় রেখেই এই পদক্ষেপ করেছে নয়াদিল্লি।
রুবিওর এই মন্তব্য ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাশিয়া থেকে তুলনামূলক কম দামে অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলেছে। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সময় এই মতবিরোধ আরও তীব্র হয়।
ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার আয় কমানোর যুক্তি তুলে ধরে ট্রাম্প প্রশাসন গত বছর ভারতীয় পণ্যের উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। এর ফলে ভারতীয় পণ্যের উপর মোট শুল্কের হার বেড়ে ৫০ শতাংশে পৌঁছয়। সেই সময় ট্রাম্পের তৎকালীন উপদেষ্টা পিটার নাভারো রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে কড়া সমালোচনাও করেছিলেন।
তবে চলতি বছরের শুরুর দিকে ওই অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রুবিওর সাম্প্রতিক বক্তব্য ভারত নিজের জ্বালানি নীতি ও আমদানির সিদ্ধান্ত জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতেই নির্ধারণ করছে—এই অবস্থানকেই সামনে এনেছে।
বিশ্বের পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আমদানির ক্ষেত্রে একাধিক উৎসের উপর নির্ভরতা বাড়ানো ভারতের কাছে গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রুবিওর মন্তব্যে সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন দেখা গেল।




















