শেষ মুহূর্তে ৯০ সেকেন্ড পিছোল ‘বাহুবলি’র উৎক্ষেপণ, মহাকাশে সংঘর্ষের আশঙ্কায় সতর্ক ISRO

শেষ মুহূর্তে ৯০ সেকেন্ড পিছোল ‘বাহুবলি’র উৎক্ষেপণ, মহাকাশে সংঘর্ষের আশঙ্কায় সতর্ক ISRO

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram


দেশ – ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী রকেট LVM3, যা ‘বাহুবলি’ নামেই বেশি পরিচিত, বুধবার সকালে এক ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণের জন্য প্রস্তুত ছিল। এই রকেটের মাধ্যমেই মার্কিন সংস্থা AST SpaceMobile-এর অত্যাধুনিক কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট BlueBird 6 মহাকাশে পাঠানোর কথা ছিল। তবে সম্ভাব্য সংঘর্ষের ঝুঁকি এড়াতে শেষ মুহূর্তে উৎক্ষেপণের সময় ৯০ সেকেন্ড পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ISRO।
আগে উৎক্ষেপণের নির্ধারিত সময় ছিল সকাল ৮টা ৫৪ মিনিট। পরে তা পরিবর্তন করে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড করা হয়। ISRO জানিয়েছে, উৎক্ষেপণ পথের কাছে থাকা মহাকাশের জঞ্জাল ও অন্য স্যাটেলাইটের গতিপথের সঙ্গে সম্ভাব্য ‘কনজাংশন’ বা সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দেওয়াতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবেই সময় পরিবর্তন করা হয়।
গবেষকদের মতে, শ্রীহরিকোটার আকাশপথে বর্তমানে হাজার হাজার স্যাটেলাইট সক্রিয় রয়েছে। ফলে লো আর্থ অরবিটে যানজটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে এবং সংঘর্ষের ঝুঁকি আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। এই বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করছে ISRO।
BlueBird 6 হল ভারতের রকেট দ্বারা উৎক্ষেপিত হওয়া এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে ভারী স্যাটেলাইট। এর ওজন প্রায় ৬ হাজার ১০০ কেজি। ISRO-র চেয়ারম্যান ভি. নারায়ণন জানিয়েছেন, ভারতের মাটি থেকে এর আগে এত ভারী স্যাটেলাইট কখনও উৎক্ষেপণ করা হয়নি। প্রায় ৪৩.৫ মিটার উচ্চতা এবং ৬৪০ টন ওজনের LVM3 রকেটই এই মিশনের জন্য উপযুক্ত ছিল।
LVM3 রকেটের সাফল্যের হার নজরকাড়া। এর আগের সাতটি মিশনেই ১০০ শতাংশ সাফল্য এসেছে, যার মধ্যে রয়েছে চন্দ্রযান-৩-এর ঐতিহাসিক উৎক্ষেপণ। বর্তমান মিশনটি LVM3-M6 নামে পরিচিত। এটি রকেটটির অষ্টম উড়ান এবং তৃতীয় বাণিজ্যিক মিশন, যা আন্তর্জাতিক মহাকাশ বাজারে ভারতের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে তুলে ধরছে।
AST SpaceMobile জানিয়েছে, তারা ২০২৬ সালের মধ্যে ৪৫ থেকে ৬০টি স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এই স্যাটেলাইটগুলি বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে ৫জি মানের ব্রডব্যান্ড পরিষেবা পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে। BlueBird 6-এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল এর প্রায় ২ হাজার ২০০ বর্গমিটার বিশাল অ্যারে অ্যান্টেনা, যা লো আর্থ অরবিটে এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড়।
এই স্যাটেলাইট আগের প্রজন্মের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি ডেটা পরিবহণ করতে পারবে। Starlink বা OneWeb-এর মতো আলাদা গ্রাউন্ড টার্মিনালের প্রয়োজন হবে না, সাধারণ স্মার্টফোনেই সরাসরি সিগন্যাল পৌঁছবে। তবে ভারত এখনও স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবার অনুমোদন দেয়নি। ফলে প্রযুক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি ভবিষ্যতে নীতি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নও উঠে আসতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই উৎক্ষেপণ শুধু ISRO-র জন্য নয়, বিশ্বব্যাপী যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। মহাকাশ থেকে সরাসরি স্মার্টফোনে ইন্টারনেট পৌঁছনো বাস্তব হলে দূরবর্তী ও দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসতে পারে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top