কলকাতা – একুশের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের জয়যাত্রার মাঝেও ভাঙড়ে ব্যতিক্রমী ফল করেছিল আইএসএফ। সেই নির্বাচনে আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকী জয়ী হয়ে বিধায়ক হন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছিল। অবশেষে ভাঙড়ে আইএসএফে বড়সড় ভাঙন দেখা দিল।
নারায়ণপুর অঞ্চলের আইএসএফ নেতা হজরত মোল্লা তাঁর অনুগামীদের নিয়ে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-এ যোগ দেন। ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক শওকত মোল্লা-র উপস্থিতিতে ঘটকপুকুরে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যোগদান পর্ব সম্পন্ন হয়।
দলবদলের পর হজরত মোল্লা জানান, এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও মানুষের স্বার্থেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর দাবি, আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেসের সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে তিনি সক্রিয় ভূমিকা নেবেন। শওকত মোল্লা বলেন, গত পাঁচ বছরে ভাঙড়ে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি বলেই হজরত মোল্লা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর উন্নয়নের পথে শামিল হয়েছেন। চাপ দিয়ে দলে টানা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নে তিনি স্পষ্ট জানান, তৃণমূলের এমন পরিস্থিতি আসেনি যে কাউকে জোর করে দলে নিতে হবে; মানুষ স্বেচ্ছায় উন্নয়নের স্বার্থে যোগ দিচ্ছেন।
অন্যদিকে আইএসএফ নেতৃত্বের দাবি, হজরত মোল্লা দীর্ঘদিন ধরেই দলবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এবং তাঁকে আগেই শোকজ করা হয়েছিল। দলের এক নেতা জানান, নারায়ণপুর অঞ্চলের দায়িত্বে থাকা ওই নেতা শেষ পর্যন্ত শওকত মোল্লার হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন, যা তাঁদের কাছে অপ্রত্যাশিত হলেও বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন।


















