রাজ্য – সংসদে ফ্লোর কো-অর্ডিনেশন নিয়ে রাহুল গান্ধী ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ফোনালাপের পর বাংলার ভোট রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলছিল। তবে সেই জল্পনায় কার্যত জল ঢেলে দিল কংগ্রেস। শনিবার প্রদেশ কংগ্রেস নেতৃত্ব স্পষ্ট জানিয়ে দিল, রাজ্যে একক শক্তিতেই সরকার গঠনের লক্ষ্যে এগোচ্ছে তারা।
এদিন সুখবিন্দর সিং সুখু, রাজ্য পর্যবেক্ষক গুলাম মীর এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। কলকাতার প্রেস ক্লাব ও প্রদেশ কংগ্রেস দপ্তরে আয়োজিত বৈঠকে শুভঙ্কর দাবি করেন, “২৯৪টি আসনেই লড়ছে কংগ্রেস। অন্য কোনও দলের সেই ক্ষমতা নেই। তাই একক শক্তিতে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আমরা সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, বিজেপি যেমন মূল প্রতিপক্ষ, তেমনই রাজ্যে তৃণমূলের বিরুদ্ধেও লড়াই চালাবে কংগ্রেস। তাঁর কটাক্ষ, “বিজেপি আরএসএস-এর রেগুলার ছাত্র, আর তৃণমূল কংগ্রেস ডিসট্যান্স এডুকেশনে পড়াশোনা করে। ফলে বিজেপিকে ভোট দেওয়া মানে তৃণমূলকে ভোট দেওয়া, আর তৃণমূলকে ভোট দেওয়া মানে বিজেপিকে ভোট দেওয়া।”
সংসদে কংগ্রেস-তৃণমূলের সমন্বয়ে বিজেপির ডিলিমিটেশন বিল পাশ না হওয়ায় যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়েও এদিন ব্যাখ্যা দেন শুভঙ্কর। তাঁর কথায়, “সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে রাহুল গান্ধীর দায়িত্ব সব বিরোধী শক্তিকে উৎসাহ দেওয়া। দেশের স্বার্থে একযোগে বিল আটকানো হয়েছে। তিনি সব বিরোধী দলের সংসদীয় নেতাকেই ফোন করেছেন, কোনও নির্দিষ্ট রাজ্যের নেতৃত্বকে নয়।”
অন্যদিকে, ভারতীয় জনতা পার্টি-কেও আক্রমণ শানিয়ে কংগ্রেস নেতৃত্ব জানায়, তাদের মূল লক্ষ্য বিজেপিকে পরাজিত করা। তবে একইসঙ্গে তৃণমূলের ১৫ বছরের শাসনকেও তীব্র সমালোচনা করা হয়। সুখবিন্দর সিং সুখুর দাবি, “এই রাজ্যে এতদিন স্লোগান ও আবেগ দিয়ে সরকার চালানো হয়েছে, উন্নয়ন হয়নি। গণতন্ত্র ও স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।”
চিটফান্ড কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির ইস্যুতেও তৃণমূলকে আক্রমণ করেন তিনি। সব মিলিয়ে, ভোটের মুখে জোট জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে কংগ্রেসের এই ‘একলা চলো’ বার্তা বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়াল।




















