কলকাতা – পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল Calcutta High Court। সরকারি কলেজের অধ্যাপক ও শিক্ষকদের প্রিসাইডিং অফিসার হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে তীব্র ভর্ৎসনা করল আদালত। কোন যুক্তিতে এই নিয়োগ করা হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলে আদালত এবং কমিশনের জবাবে সন্তুষ্ট না হয়ে শেষ পর্যন্ত সেই নিয়োগ বাতিল করে দেয়।
শুক্রবার বিচারপতি Krishna Rao-এর বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। কলেজ শিক্ষকদের একটি সংগঠনের দায়ের করা রিট পিটিশন মঞ্জুর করে বিচারপতি পর্যবেক্ষণ করেন, নির্বাচন কমিশন নিজেই ২০১০ সালের নির্দেশিকা লঙ্ঘন করেছে। ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী, কোনও ‘অনিবার্য পরিস্থিতি’ না থাকলে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষক বা গ্রুপ ‘এ’ স্তরের আধিকারিকদের সাধারণত ভোটগ্রহণের দায়িত্বে নিযুক্ত করা যায় না।
আদালত আরও জানায়, কমিশন এমন কোনও নথি পেশ করতে পারেনি, যার ভিত্তিতে এই নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রমাণিত হয়। শুনানির সময় কমিশনের আইনজীবী দাবি করেন, ২০২৩ সালের ৭ জুনের একটি নতুন সার্কুলার পুরনো নির্দেশিকাকে বাতিল করেছে এবং নিয়োগের ক্ষেত্রে বেতন কাঠামো ও পদমর্যাদার ভিত্তিতে নতুন ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
তবে এই যুক্তি খারিজ করে দেয় আদালত। বিচারপতি রাও স্পষ্ট করে বলেন, ২০২৩ সালের সার্কুলারে ২০১০ সালের নির্দেশিকার কোনও উল্লেখ নেই, ফলে সেটি বাতিল হয়েছে—এমন দাবি গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের মতে, পূর্বের নির্দেশিকাই এখনও কার্যকর রয়েছে।
শুনানির সময় আরও উঠে আসে, ১৩ এপ্রিল ও ১৬ এপ্রিল—দুই দফা শুনানিতেই কমিশনকে প্রয়োজনীয় নথি জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একাধিক সুযোগ পাওয়ার পরও কমিশন কোনও প্রমাণ পেশ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে আদালত পর্যবেক্ষণ করে।
তবে আদালত একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড়ও দিয়েছে। যেসব শিক্ষক ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণ নিয়েছেন এবং এখনও এই দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক, তাঁরা তাঁদের পদে বহাল থাকতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
এই রায়ে নির্বাচনী দায়িত্ব বণ্টন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।




















