রাজ্য – বিধানসভা ভোটের প্রচারে উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্সে গিয়ে একেবারে ভিন্ন মেজাজে ধরা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জলপাইগুড়ি জেলার মেটেলি ব্লকের চালসায় পৌঁছেই তিনি নেমে পড়েন রাস্তায়। ধামসা-মাদলের তালে জনজাতি মহিলাদের সঙ্গে পা মিলিয়ে নাচতে দেখা যায় তাঁকে। শুধু তাই নয়, নিজেই হাতে তুলে নেন মাদল এবং বাজাতেও দেখা যায় তৃণমূল সুপ্রিমোকে, যা মুহূর্তেই উৎসবের আবহ তৈরি করে গোটা এলাকায়।
হেলিকপ্টারে করে মেটেলিতে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নামার পর থেকেই চা বাগানের শ্রমিক পরিবারগুলির মধ্যে উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে। স্থানীয় মহিলাদের সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তোলেন তিনি, ছোট ছোট শিশুদের কোলে তুলে আদর করতেও দেখা যায়। এরপর চালসা হেলিপ্যাড থেকে সড়কপথে মঙ্গলবাড়ি বস্তির উদ্দেশে রওনা দেন তিনি এবং সেখানে সেন্ট লাকি ক্যাথলিক চার্চের জ্যোতি আশ্রমে গিয়ে স্থানীয় ফাদার ও সিস্টারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এই সফর শুধু রাজনৈতিক প্রচার নয়, জনসংযোগের এক ভিন্ন দৃষ্টান্ত হিসেবেও উঠে এসেছে। ভোট ঘোষণার পর এই প্রথম ডুয়ার্স সফর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর। ফলে নির্বাচনী উত্তেজনার পাশাপাশি তাঁর এই সহজ-সরল, মিশুক রূপই এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
এদিকে উত্তরবঙ্গে যাওয়ার আগে কলকাতা বিমানবন্দর-এ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। নির্বাচন কমিশন-কে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। কমিশনের নোটিফিকেশনে বিজেপির প্রতীক রয়েছে, এমনকি লেটারহেডেও বিজেপির ছাপ রয়েছে।” নিজের দাবির পক্ষে একটি নথিও দেখান তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও অভিযোগ করেন, কমিশন কার প্রভাবে কাজ করছে তা স্পষ্ট। তাঁর বক্তব্য, “ব্যাকডোর দিয়ে খেলছে এই কমিশন। সাহস থাকলে সামনাসামনি খেলুক। তালিকা প্রকাশ করতে এত ভয় কেন? তালিকা দেখলেই বোঝা যাবে এটি ভুল না ইচ্ছাকৃত পদক্ষেপ।” একইসঙ্গে তিনি জানান, সম্প্রতি একাধিক রিটার্নিং অফিসারকে বদলি করা হয়েছে, যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।




















