রাজ্য – রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় বিপুল হারে ভোটদান হল। মোটের উপর বিচ্ছিন্ন কিছু হিংসার ঘটনা বাদ দিলে ভোট হয়েছে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নভাবে। স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোটারদের অংশগ্রহণে কার্যত গণতন্ত্রের উৎসবের চেহারা নেয় নির্বাচন পর্ব। দিনের শেষে নির্বাচন কমিশন জানায়, মোট ভোটদানের হার ৯২.৭১ শতাংশ, যা আরও বাড়তে পারে বলে অনুমান।
জেলাভিত্তিক ভোটের হারেও উল্লেখযোগ্য চিত্র উঠে এসেছে। কোচবিহারে সর্বোচ্চ ৯৫.৬৯ শতাংশ ভোট পড়েছে। আলিপুরদুয়ারে ৯২.৩৪ শতাংশ, দার্জিলিঙে ৮৮.৭৫ শতাংশ, কালিম্পঙে ৮৩.০৬ শতাংশ ভোট হয়েছে। জলপাইগুড়িতে ৯৪.৫২ শতাংশ, উত্তর দিনাজপুরে ৯৪.০৪ শতাংশ, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৯৫.৩৯ শতাংশ ভোট পড়ে। মালদহে ৯৪.২১ শতাংশ, মুর্শিদাবাদে ৯৩.৫৩ শতাংশ, পশ্চিম বর্ধমানে ৯০.২৯ শতাংশ, পশ্চিম মেদিনীপুরে ৯২.১৬ শতাংশ, পূর্ব মেদিনীপুরে ৯০.৯৭ শতাংশ ভোট হয়। এছাড়া ঝাড়গ্রামে ৯২.১১ শতাংশ, পুরুলিয়ায় ৯০.৬৫ শতাংশ, বাঁকুড়ায় ৯১.৯৬ শতাংশ এবং বীরভূমে ৯৪.৪৪ শতাংশ ভোটদানের হার রেকর্ড হয়েছে।
দিনের শেষে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাও প্রশংসিত হয়েছে। প্রায় ৪০ হাজার বুথের মধ্যে গুটিকয়েক জায়গায় বিচ্ছিন্ন অশান্তির খবর ছাড়া গোটা নির্বাচন পর্ব শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই পর্বে কোনও রাজনৈতিক দলই কোনও বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানায়নি।
ভোটকে সুরক্ষিত ও স্বচ্ছ করতে কমিশন বিশেষভাবে নির্দেশ দেয়, ভোটকেন্দ্র থেকে ১০০ মিটারের মধ্যে শুধুমাত্র ভোটারদের প্রবেশের অনুমতি থাকবে। কমিশনের মতে, এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকর হয়েছে এবং কোনও বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে অশান্তির অভিযোগ আসেনি।
এছাড়া বুথ দখল, এজেন্ট তুলে দেওয়া বা বড় ধরনের কোনও অপ্রীতিকর ঘটনার অভিযোগও কমিশনের কাছে আসেনি। সব মিলিয়ে প্রথম দফার ভোটকে নির্বাচন কমিশন তাদের ভাষায় “নজিরবিহীন সাফল্য” হিসেবে উল্লেখ করেছে।



















