কলকাতা – পুরসভা নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় রাজ্যের মন্ত্রী সুজিত বসুর বিরুদ্ধে আদালতে একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এটি কোনও সাধারণ অনিয়মের ঘটনা নয়, বরং আর্থিক তছরুপের একটি ‘ক্লাসিক কেস’। ইডির অভিযোগ, এই দুর্নীতির মূল কাণ্ডারীদের মধ্যে অন্যতম সুজিত বসু নিজেই। আদালতে বিপুল অঙ্কের লেনদেন এবং বেআইনি নিয়োগের পরিসংখ্যানও তুলে ধরা হয়েছে।
ইডির আইনজীবী অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতে দাবি করেন, সুজিত বসুর নির্দেশেই বিভিন্ন পুরসভায় বিপুল সংখ্যক অযোগ্য প্রার্থীকে বেআইনিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারী সংস্থার দাবি অনুযায়ী, মোট ৩৪০ জন প্রার্থীর সুপারিশ করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ২৮৬ জন যোগ্যতাহীন প্রার্থী সরাসরি চাকরি পেয়েছেন বলে অভিযোগ। প্রতিটি চাকরির জন্য প্রায় ৬ লক্ষ টাকা করে নেওয়া হয়েছিল বলেও আদালতে দাবি করেছে ইডি।
তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি, শুধু দক্ষিণ দমদম পুরসভাতেই ২৮৪টি বেআইনি নিয়োগের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। পাশাপাশি মামলার অন্য অভিযুক্ত অয়ন শীলের বক্তব্য উদ্ধৃত করে ইডি আদালতে জানায়, সুজিত বসু নিজে যেমন বিভিন্ন প্রার্থীর নাম রেফার করতেন, তেমনই অন্য রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পাঠানো সুপারিশও পুরসভায় পাঠানো হত। ইডির দাবি অনুযায়ী, এর মধ্যে ১৫২টি সুপারিশ দক্ষিণ দমদম পুরসভায় পাঠানো হয়েছিল।
তবে ইডির এই সমস্ত অভিযোগের পাল্টা জবাব এখনও দেননি সুজিত বসুর আইনজীবী। আগামী ১৭ অগস্ট বিকেল ৩টেয় মামলাটির পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। সেই শুনানিতেই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আনা অভিযোগের জবাব দেওয়ার কথা সুজিত বসুর আইনজীবীর।



















