রেজিনগর
নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে শুরু হয়েছে বিধানসভা উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। সকাল থেকেই দুই কেন্দ্রেই কড়া নিরাপত্তা রয়েছে। এর মধ্যেই ভোটগ্রহণ শুরুর পর রেজিনগরে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ তোলার পর আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান তথা নওদার বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে আটক করেছে পুলিশ।
ভোট শুরুর আগে নিজের বাড়ির বাইরে পুলিশ মোতায়েন নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ, রেজিনগরে ভোটার ও তাঁর দলের কর্মীদের উপর পুলিশি চাপ তৈরি করা হচ্ছে। ভোটে বাধা দেওয়ার চেষ্টা হলে রাস্তায় নেমে প্রতিরোধের কথাও বলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের সামনে ‘মুগুর নিয়ে’ রুখে দাঁড়ানোর বার্তা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
এর পরেই প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে হুমায়ুনের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয় বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরে তাঁকে রেজিনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন।
এর আগে ভোট দিয়ে বেরিয়েও পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন হুমায়ুন। তাঁর অভিযোগ, বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী যথাযথভাবে মোতায়েন নেই এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর এই দাবিগুলি অবশ্য তাঁর রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই সামনে এসেছে; সেগুলির স্বাধীন প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি।
রেজিনগরে এবার মোট ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নওদা ও রেজিনগর—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন হুমায়ুন কবীর। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেওয়ায় এই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনে এবার আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী তাঁর ছেলে গোলাম নবী আজাদ।
রেজিনগরে মোট ৩১৫টি বুথে ভোটগ্রহণ হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য ৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং ৮১৯ জন পুলিশকর্মী মোতায়েন রয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। ভোটের শুরুতেই হুমায়ুনকে আটক করার ঘটনায় উপনির্বাচনের আবহে রেজিনগরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়ল।



















