পাঁচ মাস পর ফের ভোটের সকাল বাংলায়, নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে কড়া নিরাপত্তায় শুরু উপনির্বাচন

পাঁচ মাস পর ফের ভোটের সকাল বাংলায়, নন্দীগ্রাম-রেজিনগরে কড়া নিরাপত্তায় শুরু উপনির্বাচন

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



কলকাতা

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পাঁচ মাসের মধ্যেই ফের ভোটের মুখে পশ্চিমবঙ্গ। মঙ্গলবার সকাল থেকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে শুরু হয়েছে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ। দুই কেন্দ্রেই সকাল ৭টা থেকে ভোট নেওয়া হচ্ছে। ভোট গণনা হবে আগামী ৯ অক্টোবর।

দুই কেন্দ্রের মধ্যে নন্দীগ্রামকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলের নজর তুলনামূলক বেশি। কারণ, এই আসন থেকেই বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের পাশাপাশি ভবানীপুর কেন্দ্র থেকেও জয় পান তিনি। পরে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। সেই কারণেই নন্দীগ্রাম আসনটি খালি হয়ে উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়।

এবার নন্দীগ্রামে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন হাসিরানি রথ। অন্যদিকে কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান। এছাড়াও বাম, আইএসএফ এবং তৃণমূলের পৃথক গোষ্ঠীর প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ফলে নন্দীগ্রামে বহুমুখী লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

নির্বাচনের আগে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল আলাদা রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্ক। ২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি আন্দোলনের সময়কার ছ’টি মামলায় গত ১৮ সেপ্টেম্বর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পাওয়ার পর গত সপ্তাহে জেলের বাইরে এসে ফের প্রচারে নামেন তিনি। ফলে নির্বাচনের আগে প্রচারের জন্য তুলনামূলক কম সময় পান কংগ্রেস প্রার্থী।

মিলন প্রধানের গ্রেফতারি নিয়ে কংগ্রেস ও তৃণমূলের তরফে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। তবে সেই অভিযোগ রাজনৈতিক দলগুলির বক্তব্য হিসেবেই রয়েছে। আদালতের জামিনের পর বর্তমানে তিনি জেলের বাইরে থেকেই নির্বাচনে লড়ছেন।

অন্যদিকে রেজিনগরেও মঙ্গলবার সকাল থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রেজিনগর এবং নওদা—দুই কেন্দ্র থেকেই জয় পেয়েছিলেন AJUP নেতা হুমায়ুন কবীর। পরে নওদা আসনটি রেখে রেজিনগর ছেড়ে দেওয়ায় এই কেন্দ্রেও উপনির্বাচনের প্রয়োজন হয়। রেজিনগরে বিজেপি, কংগ্রেস, AJUP এবং তৃণমূলের দুই গোষ্ঠী-সহ একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দুই কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করতে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশের মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি SIR-সংক্রান্ত একাধিক আপিল এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকায় ভোটার তালিকা নিয়েও প্রশাসনিক নজর রয়েছে। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর মিলিয়ে ১৮ হাজারের বেশি SIR-সংক্রান্ত আবেদন এখনও মুলতুবি রয়েছে বলে রিপোর্টে উঠে এসেছে।

এবারের উপনির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোট শুধু দুই বিধানসভা আসনের ফলাফলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে এটিই প্রথম বড় ভোটপর্ব। ফলে দুই কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ ও আগামী ৯ অক্টোবরের ফলাফলের দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top