কলকাতা
SIR নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি বিতর্কের মধ্যেই তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পোস্টে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক তথা বর্তমান মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল এবং SIR-এর সময়ের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্তের ছবি দিয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন মহুয়া। সেই পোস্টের পরই পাল্টা আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মনোজ আগরওয়াল।
মহুয়া মৈত্র তাঁর X হ্যান্ডেলে মনোজ আগরওয়াল ও সুব্রত গুপ্তের ছবি পোস্ট করে তাঁদের বাংলায় SIR-এর ‘দুই সবচেয়ে বড় রূপকার’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘বেআইনি কাজ’ করার অভিযোগও তোলেন তিনি। পোস্টে আরও লেখেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। তবে এই অভিযোগগুলি মহুয়ার রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই রয়েছে; এগুলি আদালত বা কোনও তদন্তকারী সংস্থার দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করা হয়নি।
মহুয়ার ওই পোস্টের পর মনোজ আগরওয়াল সরাসরি আইনি পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেন। তাঁর বক্তব্য, অভিযোগগুলি ভিত্তিহীন এবং ‘এনাফ ইজ এনাফ’। আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে মহুয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক নিজের সিদ্ধান্তে কোনও ভোটারের নাম বাদ দিতে বা নতুন নাম যুক্ত করতে পারেন না।
SIR-এর সময় ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন মনোজ আগরওয়াল। তাঁর দাবি, যে নামগুলি বাদ পড়েছিল, সেগুলির ক্ষেত্রে মৃত, স্থানান্তরিত, অস্তিত্বহীন বা ভুয়ো ভোটারের মতো কারণ ছিল। পরবর্তী পর্যায়ে এই বিষয়গুলির সঙ্গে বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের দায়িত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, SIR-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়েই বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এককভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগের পাশাপাশি কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াও আদালতের নজরে এসেছে। সোমবারের শুনানিতে কমিশনের সিদ্ধান্তগুলি কীভাবে নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এই আবহেই মহুয়ার নতুন পোস্ট এবং তার পর মনোজ আগরওয়ালের পাল্টা আইনি হুঁশিয়ারি রাজ্যের SIR বিতর্ককে আরও রাজনৈতিক মাত্রা দিয়েছে। এখন মহুয়ার বিরুদ্ধে সত্যিই মানহানির মামলা করা হয় কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক ও আইনি মহলের।




















