কলকাতা
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন ‘বিদ্রোহী’ শিবির থেকে আরও এক বিধায়ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে থাকার বার্তা দিলেন। মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, তিনি তৃণমূলেই রয়েছেন এবং মমতার সঙ্গেই ছিলেন। তাঁর দাবি, ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ বলে আলাদা কোনও দল বা শিবির নেই।
রথীন ঘোষ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া টিকিটেই তিনি বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তাই মমতাকে ছেড়ে যাওয়ার কোনও প্রশ্নই ওঠে না। তাঁর কথায়, তিনি তৃণমূল ছেড়ে যাননি এবং তৃণমূলেই ছিলেন, আছেন ও থাকবেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দলের কোনও কর্মসূচি ডাকলে তৃণমূল কর্মী হিসেবেই তিনি সেই কর্মসূচিতে অংশ নেবেন বলেও জানিয়েছেন রথীন।
রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর তৃণমূলের অন্দরে তৈরি হওয়া বিভাজনের আবহেই এই মন্তব্য করলেন মধ্যমগ্রামের বিধায়ক। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে একদল বিধায়ককে নিয়ে পৃথক রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছিল। রথীন ঘোষের নামও সেই শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে। ঋতব্রতকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অংশ।
এই পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে ‘ঘরে ফেরার’ বার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে আমডাঙার বিধায়ক কাশেম সিদ্দিকীও ঋতব্রত-ঘনিষ্ঠ শিবির থেকে মমতা-পন্থী অবস্থানে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন। এবার একই সুর শোনা গেল রথীন ঘোষের গলাতেও।
রথীনের বক্তব্য, বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর নাম থাকা মানেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব থেকে সরে গিয়েছেন—এমনটা নয়। তিনি নিজেকে তৃণমূলেরই বিধায়ক হিসেবে দেখছেন। ফলে তাঁর এই অবস্থানকে ঘিরে রাজ্যের শাসকদলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।




















