নয়াদিল্লি: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-কে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের প্রতিবাদ ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সরব লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে পাল্টা আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। গুজরাতের সাম্প্রতিক পুর নির্বাচনে কংগ্রেসের পরাজয়ের প্রসঙ্গ তুলে তাঁর প্রশ্ন, নির্বাচনে হারলেই কি এসআইআর-কে দায়ী করবেন রাহুল?
অমিত শাহের দাবি, বর্তমান এসআইআর প্রক্রিয়া ২০২৪ সালের পর শুরু হয়েছে। অথচ রাহুল গান্ধী রাজনীতিতে আসার পর থেকেই কংগ্রেস একের পর এক নির্বাচনে পরাজয়ের মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। শাহের বক্তব্য, নিজেদের রাজনৈতিক ব্যর্থতা আড়াল করতেই এসআইআর-কে সামনে আনছে কংগ্রেস। একই সঙ্গে রাহুল গান্ধীকে আত্মসমীক্ষা করার পরামর্শও দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
গান্ধীনগর পুরনিগমে বিজেপির বড় জয়
গুজরাতের সাম্প্রতিক পুর নির্বাচনে বিজেপির সাফল্যকে সামনে রেখেই বিরোধীদের আক্রমণ করেছেন শাহ। রাজ্যের রাজধানী গান্ধীনগর পুরনিগমের মোট ৪৪টি আসনের মধ্যে ৩৮টিতে জয় পেয়েছে বিজেপি। উল্লেখযোগ্য বিষয়, গান্ধীনগর অমিত শাহের লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত।
এ ছাড়াও থারা ও ওখা পুরসভায় নিজেদের দখল ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি। এই ফলকে হাতিয়ার করেই কংগ্রেসের নির্বাচনী কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গেরুয়া শিবির। তাদের বক্তব্য, নির্বাচনে পরাজয়ের কারণ খতিয়ে না দেখে এসআইআর-কে দায়ী করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করছে বিরোধীরা।
এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদ, পাল্টা চাপ বিজেপির
অন্যদিকে, এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আপত্তি অব্যাহত রয়েছে। রাহুল গান্ধী-সহ বিরোধী নেতারা এই প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সেই আবহেই অমিত শাহের পাল্টা আক্রমণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও উসকে দিল।
এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ এবং কংগ্রেসের নির্বাচনী ফলাফল—দুই বিষয়কে সামনে রেখে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর অব্যাহত। তবে এসআইআর নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগের যথার্থতা এবং নির্বাচনী পরাজয়ের কারণ—দুটি পৃথক বিষয়, যার মূল্যায়ন নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট তথ্য ও প্রমাণের উপর।




















