নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে জল্পনার মধ্যেই মঙ্গলবার দিল্লি গেলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুজোর একাধিক উদ্বোধনী কর্মসূচি স্থগিত রেখে তাঁর এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সরকারি সূত্রের দাবি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আমন্ত্রণে বিমস্টেক সদস্য দেশগুলির নৈশভোজে যোগ দিতেই দিল্লি গিয়েছেন তিনি। তবে একই সময়ে মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদলের আলোচনা শুরু হওয়ায় উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় রদবদল হলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে কারা জায়গা পেতে পারেন, তা নিয়ে বিজেপির অন্দরেও আগ্রহ রয়েছে। রাজ্য থেকে পূর্ণমন্ত্রী করা হতে পারে কাউকে, নাকি প্রতিমন্ত্রীর পদেই সীমাবদ্ধ থাকবে বাংলার প্রতিনিধিত্ব—সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। গুরুত্বপূর্ণ কোনও মন্ত্রকের দায়িত্ব বাংলার প্রতিনিধিদের হাতে আসতে পারে কি না, তা নিয়েও জল্পনা চলছে। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।
মুরুগানের ইস্তফায় কেন বাড়ল জল্পনা?
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এল মুরুগানের মন্ত্রিত্ব ও রাজ্যসভার সদস্যপদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে রদবদলের জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লেখা চিঠিতে তামিলনাড়ুতে দলের সাংগঠনিক কাজে আরও বেশি সময় দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সরকার ও সংগঠনে দায়িত্বের নতুন বণ্টন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এর আগে রবনীত সিং বিট্টু ও জর্জ কুরিয়েনের মতো নেতাদের সংসদীয় অবস্থান এবং মন্ত্রিত্ব ঘিরে পরিবর্তনও রাজনৈতিক মহলের নজরে এসেছে। অন্যদিকে, হর্ষ মালহোত্রাকে দিল্লি বিজেপির সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনাও সরকার ও দলের সংগঠনের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
পাশাপাশি, পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এবং প্রতিমন্ত্রী বি এল ভার্মার রাজ্যসভায় পুনরায় প্রার্থী হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গও আলোচনায় এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকা নেতাদের সংসদীয় অবস্থান ও সাংগঠনিক পরিবর্তনকে ঘিরে তাই সম্ভাব্য রদবদল নিয়ে জল্পনা আরও বেড়েছে।
বাংলার ভাগ্যে কী রয়েছে?
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং রাজ্য বিজেপির সাংগঠনিক গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বাংলার প্রতিনিধিত্ব বাড়বে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে। পূর্ণমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনও দফতরের দায়িত্ব—কোন পথে এগোবে সমীকরণ, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
শুভেন্দু অধিকারীর দিল্লি সফর এবং মন্ত্রিসভায় সম্ভাব্য রদবদল—দুটি ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চললেও, সফরের সঙ্গে মন্ত্রিসভার পুনর্বিন্যাসের সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ফলে শেষ পর্যন্ত বাংলার প্রতিনিধিদের জন্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।




















