নয়াদিল্লি: প্রয়োজনে মাত্র ২৪ ঘণ্টার নোটিসেই রাজধানী দিল্লিতে বড় জমায়েত করার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের এমনই বার্তা দিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সূত্রের খবর, যে কোনও পরিস্থিতিতে দ্রুত রাজনৈতিক কর্মসূচি সংগঠিত করার মতো সাংগঠনিক প্রস্তুতি রাখতে বলেছেন তিনি। তবে পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও ঘোষণা করেনি বিরোধী জোট।
সোমবার নয়াদিল্লির বড়াখাম্বা রোডে ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সমর্থকের জমায়েত হয়েছিল। দিল্লি সংলগ্ন উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব ও হরিয়ানা থেকেও বিভিন্ন বিরোধী দলের সমর্থকেরা রাজধানীতে পৌঁছেছিলেন। নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধীদের প্রতিবাদের পাশাপাশি সুপ্রিম কোর্টে তাঁদের আবেদন জমা দেওয়ার ঘটনাও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
এর পর মঙ্গলবার রাহুল গান্ধীর বাসভবনে বিরোধী জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা চা-চক্রে মিলিত হন। সূত্রের খবর, সেখানেই ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন রাহুল। পরিস্থিতি অনুযায়ী যাতে দ্রুত জমায়েত করা যায়, তার জন্য দলগুলিকে সাংগঠনিকভাবে প্রস্তুত থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
উৎসবের মরশুমে কর্মসূচি ঘোষণা না করার কৌশল?
নবরাত্রি শুরু হওয়ায় বর্তমানে উৎসবের আবহ রয়েছে রাজধানী-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এই সময়ে মিছিল বা সভা করে দিল্লির স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত করতে চাইছেন না বিরোধী নেতারা বলে সূত্রের খবর। তাঁদের আশঙ্কা, উৎসবের সময় বড় কর্মসূচির জেরে সাধারণ মানুষের অসুবিধা হলে জনসমর্থনে তার প্রভাব পড়তে পারে।
সেই কারণেই আপাতত পরবর্তী কর্মসূচি প্রকাশ্যে ঘোষণা না করার কৌশল নেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে। তবে প্রকাশ্যে কর্মসূচি ঘোষণা না করলেও, প্রয়োজনে দ্রুত বড় জমায়েত করার প্রস্তুতি বজায় রাখতে চাইছে বিরোধী শিবির। এতে একদিকে যেমন সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ বজায় রাখা সম্ভব, অন্যদিকে পরিস্থিতি অনুযায়ী আন্দোলনের কর্মসূচিও দ্রুত নির্ধারণ করা যাবে।
এখনও পর্যন্ত ইন্ডিয়া জোটের পরবর্তী কর্মসূচির দিনক্ষণ বা স্থান আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। রাহুল গান্ধীর এই বার্তার পর বিরোধী দলগুলি কীভাবে নিজেদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি এগিয়ে নিয়ে যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।




















