কলকাতা: বামেদের বই বিপণিতে হামলার অভিযোগ ঘিরে কলকাতার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে দেখা গেল নজিরবিহীন বাম ঐক্যের ছবি। সিপিএমের রাজ্য দফতরে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে বামফ্রন্টের শরিক দলগুলির পাশাপাশি উপস্থিত ছিল সিপিআইএমএল (লিবারেশন) এবং এসইউসিআই (SUCI)। সিপিএমের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দূরত্ব সরিয়ে রেখে এসইউসিআইয়ের এই সাংবাদিক বৈঠকে যোগদান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। গত চার দশকে এমন ছবি দেখা যায়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
গত কয়েক দিন ধরে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বামপন্থীদের বই বিপণিতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। ঢাকুরিয়ায় সিপিআইএমএল (লিবারেশন)-এর এক প্রবীণ নেতাকে মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। এই ঘটনার প্রতিবাদে লেক থানার সামনে বিক্ষোভ দেখান বাম কর্মী-সমর্থকেরা। একের পর এক হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাম শিবিরে ক্ষোভ বাড়ছে।
শনিবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের সাংবাদিক বৈঠক থেকে বাম নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজ্যের মানুষের চেতনা থেকে বামপন্থাকে মুছে ফেলার উদ্দেশ্যেই বই বিপণিগুলিকে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, এই ধরনের হামলার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ গড়ে তোলা হবে এবং যথাসাধ্য প্রতিরোধ করা হবে।
এদিকে, বেলেঘাটায় সিপিএমের একটি বইয়ের স্টল ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তবে স্টল ভাঙচুরের পরেও সেখানেই বই বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছেন দলের কর্মীরা। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের দাবি, যেখানে বইয়ের স্টলে হামলা হচ্ছে, সেখানে সাধারণ মানুষের সমর্থনও বাড়ছে। তাঁর বক্তব্য, হামলার মাধ্যমে বই বিক্রি বা বামপন্থী মতাদর্শের প্রচার বন্ধ করা যাবে না।
বই বিপণিতে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বাম দলগুলির এই যৌথ অবস্থান রাজ্যের রাজনৈতিক পরিসরে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তবে ঘটনাগুলির পিছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত ও প্রশাসনের বক্তব্য এখনও গুরুত্বপূর্ণ।




















