আজমগড়, উত্তরপ্রদেশ
অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলি চালানোর ঘটনায় অস্ত্র পাচারের অভিযোগে দুই তরুণীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন উত্তরপ্রদেশের আজমগড়ের বাসিন্দা ববিতা। এক সাধারণ গ্রামীণ পরিবার থেকে উঠে আসা এই তরুণীর নাম বলিউডের সঙ্গে যুক্ত একটি হাই-প্রোফাইল অপরাধের তদন্তে জড়িয়ে পড়ায় তাঁর পরিবার ও এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ববিতা গত প্রায় দু’বছর ধরে হরিয়ানার সোনিপতে একটি নোনতা খাবার ও বিস্কুট তৈরির কারখানায় প্যাকেজিংয়ের কাজ করছিলেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থায় সাহায্য করতে মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেতনে কাজ করতেন তিনি। কিন্তু হঠাৎই একটি চাঞ্চল্যকর মামলায় তাঁর গ্রেফতারের খবর পৌঁছয় বাড়িতে। এরপর থেকেই আজমগড়ের পৈতৃক গ্রামে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ববিতাকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন।
ববিতার বাবা রামজনতন রাম জানিয়েছেন, দু’-তিন দিন আগে দিল্লি পুলিশের কাছ থেকে তাঁরা মেয়ের আটকের খবর পান। তাঁর দাবি, সোনিপতে ববিতার থাকার ঘরের পাশেই রাধা নামে এক মহিলা থাকতেন। পরিবারের সদস্যরা ওই মহিলাকে আগে থেকে চিনতেন না।
রামজনতন রামের বক্তব্য অনুযায়ী, রাধা ববিতাকে মন্দির দর্শন ও মেলা দেখার কথা বলে মুম্বই যাওয়ার প্রস্তাব দেন। তাঁর কথায় বিশ্বাস করেই ববিতা সঙ্গে যান বলে দাবি পরিবারের। মুম্বই থেকে ফেরার পথে দিল্লিতে পৌঁছলে পুলিশ দু’জনকেই হেফাজতে নেয় বলে জানিয়েছেন ববিতার বাবা। তাঁর আরও দাবি, রাধার ব্যাগ বা পার্স থেকে সন্দেহজনক কিছু সামগ্রী উদ্ধারের পরই পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করে।
মেয়ের গ্রেফতারের ঘটনায় উদ্বিগ্ন ববিতার পরিবার। রামজনতন রাম জানিয়েছেন, আইন ও বিচারব্যবস্থার উপর তাঁদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা সামনে আনা এবং তাঁর মেয়ে নির্দোষ প্রমাণিত হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
তবে ববিতার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা এবং এই ঘটনায় তাঁর ভূমিকা তদন্তের মাধ্যমেই স্পষ্ট হবে। গ্রেফতার হওয়া মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়।




















