কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি ও প্রতিবাদ মিছিলে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কুণাল ঘোষকে। রাজনৈতিক পালাবদল ও দলবদলের জল্পনার মধ্যেও তৃণমূলের সঙ্গেই রয়েছেন তিনি। এবার দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ এবং সিপিএমের বুকস্টলে ভাঙচুরের ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গণতন্ত্রের সংকট এবং বিরোধী দলগুলির ইস্যুভিত্তিক ঐক্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরলেন কুণাল ঘোষ।
গণতন্ত্রের বর্তমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ বলেন, কংগ্রেস একটি পৃথক রাজনৈতিক দল, বামফ্রন্ট একটি পৃথক রাজনৈতিক শক্তি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব নীতি ও দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। প্রতিটি দলেরই আলাদা রাজনৈতিক অবস্থান এবং ইস্যুভিত্তিক মতামত থাকে।
তবে তাঁর বক্তব্য, কোনও সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিস্থিতি যখন শুধুমাত্র একটি দলের সমস্যা না হয়ে সাধারণ মানুষের সমস্যা এবং গণতন্ত্রের সংকটে পরিণত হয়, তখন সেই নির্দিষ্ট ইস্যুতে বিভিন্ন দলের সহমত হওয়া সময়ের দাবি।
কুণাল ঘোষের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় কারচুপি, বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং ভোট লুটের মতো ঘটনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে। পাশাপাশি, ধর্মের ভিত্তিতে সমাজকে বিভক্ত করার চেষ্টা এবং জনবিরোধী আর্থিক নীতির কারণে সাধারণ মানুষ, শ্রমজীবী, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত ও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তাঁর আরও বক্তব্য, এই পরিস্থিতিতে নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছে। তাই ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল ও সংবিধানে বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক দলগুলি যদি মানুষের অধিকার রক্ষার স্বার্থে নির্দিষ্ট কিছু ইস্যুতে একমত হয়, তাহলে তাতে আপত্তির কোনও কারণ নেই।
কুণাল ঘোষের বক্তব্যে স্পষ্ট, রাজনৈতিক দলগুলির নিজস্ব মতাদর্শ ও অবস্থান আলাদা হলেও গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার রক্ষার প্রশ্নে ইস্যুভিত্তিক ঐক্যের সম্ভাবনাকে তিনি সমর্থন করছেন। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিকে শুধুমাত্র কোনও একটি দলের রাজনৈতিক সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না, বরং বৃহত্তর গণতান্ত্রিক সংকটের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করা প্রয়োজন।




















