
নিজস্ব সংবাদদাতা,উত্তর ২৪ পরগণা,২১ শে অক্টোবর :বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর ব্লকের ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বাঙলানি গ্রাম পঞ্চায়েতের তেঁতুলিয়া মহাশ্মশানের মা কালী। স্থানীয় মানুষের ভাষায় যা সীমান্ত কালী নামেও পরিচিত। কয়েক শতক আগে বাদুড়িয়ার কুলিয়া এলাকার মন্ডল পরিবারের এক গৃহবধূ স্বপ্নাদেশ পেয়ে হরিশপুরবাসী তাঁর ভ্রাতা হারাধন মন্ডলকে মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন। সেই কথা মতো হারাধন মন্ডল ইছামতী নদীর পাশে তেঁতুলিয়া মহাশ্মশানে খড়ের ছাদ দিয়ে মায়ের মূর্তি প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করান। দেশভাগের আগে অধুনা বাংলাদেশের অন্তর্গত খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোহর থেকে প্রচুর পূর্ণার্থী এই মন্দিরে ভিড় করতেন। কিন্তু ‘৪৭ এর পর থেকে তাদের আনাগোনা কিছুটা কম হতে থাকে। কিন্তু কাঁটাতারের তোয়াক্কা না করে পূর্ব বঙ্গ থেকে প্রায়শই মানুষ মায়ের দর্শন পাওয়ার আশায় উপস্থিত হতেন। তারপরে ইছামতী দিয়ে বয়ে গিয়েছে প্রচুর জল, খড়ের সেই ছাদ আজ কংক্রিটে পরিণত হয়েছে। শিব, হনুমান ও জগন্নাথ সহ একাধিক ঠাকুর এই মন্দিরে স্থান পেয়েছেন। কিন্তু ফিকে হয়নি তেঁতুলিয়া মহাকালীর ঐতিহ্য।

বংশ পরম্পরায় এখানে পুজোর কাজে পৌরহিত্য করে চলেছেন পার্শ্ববর্তী হরিশপুর গ্রামের মুখার্জি পরিবারের সদস্যরা। বছরের প্রত্যেকটি দিনই এখানে পুজো করেন মুখার্জি পরিবারের বর্তমান উত্তরসূরী মনোরঞ্জন মুখার্জি। তিনি জানান, কালী পুজোর দিন এখানে কয়েক হাজার মানুষের সমাগম হয়। তার সাথে ক্রমাগত চলে ভোগ বিতরণ। বর্তমান মন্দির কমিটির সদস্য অরবিন্দ সরকার মায়ের নানান অলৌকিক গল্প শোনানোর পাশাপাশি বলেন, “শ্যামা পুজোর দিন এই মন্দিরে জেলা, রাজ্য সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত সমাগম হয়। জাগ্রত এই বিগ্রহকে আলতা-সিঁদুর ও শাড়ী দিতে রীতিমতো ঠেলাঠেলি ও ধস্তাধস্তিও শুরু হয়ে যায়।” শ্যামা পুজোর কয়েকদিন মন্দির প্রাঙ্গণ মেলার আকার ধারন করে।


















