SIR নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের হলফনামা, ‘তিন কমিশনারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই জারি নির্দেশ’

SIR নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নির্বাচন কমিশনের হলফনামা, ‘তিন কমিশনারের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তেই জারি নির্দেশ’

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



নয়াদিল্লি

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল নির্বাচন কমিশন (ECI)। SIR সংক্রান্ত সমস্ত সিদ্ধান্ত কমিশনের তিন সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে নিয়েছেন বলে আদালতে জমা দেওয়া যৌথ হলফনামায় দাবি করেছে কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমার এককভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করা হয়েছে—এই অভিযোগও খারিজ করেছে তারা।

সোমবার উপ-নির্বাচন কমিশনার ভানু প্রকাশ এতুরুর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে হলফনামাটি জমা দেওয়া হয়। তাতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। কমিশনের দাবি, ২০২৫ সালের ২৪ জুন, ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে জারি করা SIR সংক্রান্ত নির্দেশগুলি সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার (নিয়োগ, সেবামর্যাদা ও কার্যকালের মেয়াদ) আইন, ২০২৩-এর ১৮ নম্বর ধারা মেনেই সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জারি করা হয়েছিল।

‘ফর্ম ৬-এ কোনও পরিবর্তন করা হয়নি’

নতুন ভোটার হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার জন্য ব্যবহৃত বিধিবদ্ধ ‘ফর্ম ৬’-এ কোনও সংশোধন করা হয়নি বলেও হলফনামায় জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের বক্তব্য, SIR প্রক্রিয়ায় যে অতিরিক্ত ঘোষণা জমা দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছে, তা একটি পৃথক নথি। নির্দিষ্ট নির্দেশের মাধ্যমে ওই নথির ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধির অধীনে নির্ধারিত মূল ফর্মে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি বলে দাবি কমিশনের।

হলফনামায় বলা হয়েছে, কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি ভুল। কমিশনের বক্তব্য, এই অভিযোগের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি, কমিশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দায়ের করা মামলাগুলিকে আইনগতভাবে অগ্রহণযোগ্য এবং ভুল ধারণার উপর প্রতিষ্ঠিত বলেও দাবি করা হয়েছে।

১৪ বার আপত্তির খবর ঘিরে বিতর্ক

সংবাদমাধ্যমের কয়েকটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, গত ১০ মাসে ভোটার তালিকা পরিচালনা, ভোটার নিবন্ধন এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্তত ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছিলেন অন্য দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশী। এই প্রতিবেদনগুলির পর কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং দেশজুড়ে SIR-এর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক আবেদন জমা পড়ে।

এই অভিযোগের জবাবে কমিশন জানিয়েছে, আলোচনা চলাকালীন কোনও কমিশনার বা আধিকারিকের উত্থাপিত পরামর্শ, প্রশ্ন কিংবা আপত্তি নিজে থেকেই কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে গণ্য হয় না। কমিশনের সামনে পেশ করা বিষয়গুলি যৌথভাবে আলোচনা করা হয় এবং সেই আলোচনায় উঠে আসা মতামত বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কী বলছে ২০২৩ সালের আইনের ১৮ নম্বর ধারা?

হলফনামা অনুযায়ী, কমিশনের সিদ্ধান্ত কমিশনারদের বৈঠকে অথবা স্বাক্ষরিত ফাইলের মাধ্যমে গৃহীত হয়। ২০২৩ সালের আইনের ১৮ নম্বর ধারায় যথাসম্ভব সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। মতপার্থক্য দেখা দিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিধানও রয়েছে।

তবে আবেদনকারীদের তরফে পাল্টা যুক্তি দেওয়া হয়েছে, পরবর্তী অনুমোদন বা পৃথক আপত্তিকে সাধারণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে দেখিয়ে যৌথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণ হয়েছে বলে দাবি করা যায় না।

SIR-এর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের এই হলফনামা মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। কমিশনের বক্তব্য এবং আবেদনকারীদের পাল্টা যুক্তি খতিয়ে দেখেই এ বিষয়ে আদালতের পরবর্তী অবস্থান স্পষ্ট হবে।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top