রাজ্য – স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের বিস্ফোরক দাবি করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার জন্য পদ অনুযায়ী নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা নেওয়া হত। ইডির সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিটে এই কথিত ‘রেট চার্ট’-এর উল্লেখ রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
ইডির দাবি অনুযায়ী, গ্রুপ C পদে চাকরি পাইয়ে দিতে প্রার্থীদের কাছ থেকে ১৫ থেকে ১৬ লক্ষ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হত। অন্যদিকে গ্রুপ D পদে চাকরির জন্য দিতে হত ১০ থেকে ১২ লক্ষ টাকা। সোমবার এই মামলায় ইডির তরফে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে।
চার্জশিটে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়, তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায় এবং মধ্যস্থতাকারী হিসেবে অভিযুক্ত কুন্তল ঘোষ ও প্রসন্ন রায়ের নাম রয়েছে। দীর্ঘদিন জেলবন্দি থাকার পর বর্তমানে পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও অর্পিতা মুখোপাধ্যায় দু’জনেই জামিনে রয়েছেন। নতুন করে ইডির চার্জশিটে তাঁদের নাম উঠে আসায় মামলাটি ফের আলোচনায় এসেছে।
শুধু টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়াই নয়, নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন স্তরেও ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তুলেছে ইডি। তদন্তকারীদের দাবি, টাকার বিনিময়ে প্রার্থীদের র্যাঙ্কে পরিবর্তন করে ‘র্যাঙ্ক জাম্প’ করানো হত।
এমনকি ওএমআর শিটেও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে। ইডির দাবি, প্যানেলের বাইরে নিয়োগ, প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও নিয়োগ এবং পুনর্মূল্যায়নের মাধ্যমে অনিয়মের মতো একাধিক পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল।
তদন্তকারী সংস্থার এই দাবির ফলে নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। কথিত ‘রেট চার্ট’-এর মাধ্যমে কীভাবে অযোগ্য প্রার্থীদের চাকরি পাইয়ে দেওয়া হত, সেই বিষয়টিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।




















