কলকাতা – কলকাতা পুরসভার খাদ্যসুরক্ষা অভিযানে একের পর এক নামী খাদ্যবিপণির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মঙ্গলবার ৪০টি রেস্তরাঁ, খাবারের দোকান ও মিষ্টির দোকানের লাইসেন্স সাসপেন্ড করার পর বুধবার আরও ২৫টি খাদ্যবিপণির লাইসেন্স সাসপেন্ড করল পুর কর্তৃপক্ষ। অর্থাৎ, দু’দিনে মোট ৬৫টি খাদ্যবিপণির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে।
পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে জানিয়েছেন, অভিযানে যেসব খাদ্যবিপণির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সেগুলি খাবারের গুণমান, পরিচ্ছন্নতা-সহ খাদ্যসুরক্ষা আইনের একাধিক শর্ত পূরণ করতে পারেনি। সেই কারণেই লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দোকানগুলিকে নিয়ম মেনে নিজেদের ব্যবস্থা সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তী পরিদর্শনে খাদ্যসুরক্ষা আধিকারিকেরা সন্তুষ্ট হলে সাসপেনশন তুলে নেওয়া হতে পারে।
এই সিদ্ধান্ত নিয়েই শহরের একাংশের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। নাগরিকদের বক্তব্য, খাবারের মান বা পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়লে শুধু লাইসেন্স সাসপেন্ড করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়াই যথেষ্ট কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার। তাঁদের একাংশের দাবি, আইন অনুযায়ী আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়ার খাদ্যসুরক্ষা ও গুণমান আইন, ২০০৬-এ খাবারে ভেজাল বা অস্বাস্থ্যকর উপাদান ব্যবহার এবং অপরিচ্ছন্নতার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে জরিমানার বিধান রয়েছে। আইনের ৫২ থেকে ৫৬ নম্বর ধারায় অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানার কথা বলা হয়েছে। ৫৯ নম্বর ধারায় অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী জরিমানা এবং কারাদণ্ডেরও বিধান রয়েছে।
পুরসভার অভিযানে নামী বিরিয়ানির দোকান-সহ একাধিক পরিচিত খাদ্যবিপণির লাইসেন্স সাসপেন্ড হওয়ায় বিষয়টি আরও আলোচনায় এসেছে। বেহালার বাসিন্দা কৌশিক নাগের মতো অনেক নাগরিকের প্রশ্ন, দীর্ঘদিন ধরে মানুষ যে সব দোকানে খাবার খান, সেখানে পরিচ্ছন্নতা বা খাদ্যসুরক্ষার নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠলে শুধু লাইসেন্স সাসপেন্ড করে বিষয়টি মিটিয়ে দেওয়া কতটা যথেষ্ট। তাঁদের দাবি, মানুষের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও কড়া পদক্ষেপ করা উচিত।




















