বারাসত
জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল বন্ধে আরও একবার কড়া অবস্থানের কথা জানালেন রাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী অর্জুন সিং। মঙ্গলবার উত্তর ২৪ পরগনার আঞ্চলিক পরিবহন দফতরে আচমকা পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার নির্দেশ দেন তিনি। হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটোর চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি নিয়েই পরিবহন দফতরের আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করেন মন্ত্রী।
বারাসত শহর ও শহরতলির যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে টোটোর অনিয়ন্ত্রিত চলাচলকে দায়ী করেন পরিবহনমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, আগামী দিনে সরকারি বাসের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। ফলে একই রাস্তায় টোটোর অবাধ চলাচল নিয়ে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
অর্জুন সিং বলেন, “নতুন সরকারি বাসগুলিও তো রাস্তাতেই চলবে। সেক্ষেত্রে জাতীয় এবং রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল করলে চলবে না। আমি জেলা শাসক এবং পুলিশ সুপারকে ব্যবস্থা নিতে বলছি।”
পরিবহনমন্ত্রী জানান, পুজোর আগেই রাজ্যে প্রায় ৯০টি নতুন সরকারি বাস রাস্তায় নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে। পুজোর পর আরও প্রায় ৫০০টি বাস পরিষেবায় যুক্ত করার কথা রয়েছে। সরকারি পরিবহন ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি শহর ও শহরতলির যানজট নিয়ন্ত্রণেও এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিন টোটোর পাশাপাশি পারমিট সংক্রান্ত অনিয়ম নিয়েও সরব হন পরিবহনমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, একজনের নামে একাধিক টোটো থাকার ঘটনা রয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে প্রকৃত দরিদ্র মানুষ এই সুবিধা পাননি। পাশাপাশি পারমিট ছাড়াই অটো চলাচল এবং সরকারের প্রাপ্য কর না দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
এই ধরনের যানবাহনের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়াতে মোটর ভেহিকল ইন্সপেক্টরদেরও নির্দেশ দিয়েছেন পরিবহনমন্ত্রী। রাস্তায় অবৈধ বা নিয়মবহির্ভূত যান চলাচল করছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় ও রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল বন্ধে এর আগেও প্রশাসনের তরফে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে টোটোচালকদের বিভিন্ন সংগঠনের আন্দোলন ও বিক্ষোভের জেরে সেই প্রক্রিয়া অনেকটাই থমকে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। এবার পরিবহনমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশের পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে।
এ বিষয়ে বারাসতের পুলিশ সুপার জে মার্সি জানিয়েছেন, জেলা শাসকের কাছ থেকে নির্দিষ্ট নির্দেশ এলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




















