কলকাতা
দীর্ঘ সাড়ে ১৫ ঘণ্টার তল্লাশি শেষে মঙ্গলবার রাত প্রায় ১১টা নাগাদ কসবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেলেন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকরা। তবে তল্লাশি পর্ব শেষ হলেও তদন্তের প্রক্রিয়া এখানেই থামছে না। বুধবার সকাল ১০টায় ইডির দফতরে হাজির হতে বলা হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে। পুজো পরিক্রমার নামে ইউনেস্কোর ভুয়ো পাস বিক্রি করে বিপুল অঙ্কের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে খবর।
ইডির দাবি, এই ঘটনায় প্রায় ৫০ থেকে ৬০ কোটি টাকা তছরূপের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের পরিধিতে ইন্দ্রনীল সেনের পাশাপাশি তাঁর স্ত্রী মধুছন্দার নামও রয়েছে বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে এই সংক্রান্ত অভিযোগ বউবাজার থানায় দায়ের হয়েছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই মঙ্গলবার একাধিক জায়গায় একযোগে তল্লাশি অভিযান চালায় ইডি।
মঙ্গলবার সকাল থেকে কলকাতা ও সংলগ্ন একাধিক ঠিকানায় শুরু হয় তল্লাশি। ইন্দ্রনীল সেনের কসবার বাড়ির পাশাপাশি ইভেন্ট ম্যানেজার অরিজিৎ দাশগুপ্তের পঞ্চসায়রের বাড়িতেও অভিযান চালানো হয়। হিন্দুস্তান পার্ক এবং হাইল্যান্ড পার্কের কয়েকটি ঠিকানাতেও ইডির আধিকারিকরা পৌঁছন। প্রতিটি জায়গাতেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন করা হয়েছিল।
শুধু কলকাতাতেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই অভিযান। সিঙ্গুরে ইন্দ্রনীল সেনের একটি বাগানবাড়িতেও ইডির একটি দল পৌঁছে যায়। তদন্তকারীদের লক্ষ্য ছিল কথিত আর্থিক লেনদেন এবং দুর্নীতির উৎস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা। দীর্ঘ সময় ধরে নথিপত্র এবং অন্যান্য বিষয় খতিয়ে দেখার পর রাতে কসবার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান তদন্তকারীরা।
এদিকে ইডির অভিযোগের পর পালটা মুখ খুলেছেন ইন্দ্রনীল সেন। তিনি আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। ফলে বুধবার ইডির দফতরে তাঁর হাজিরা ঘিরে নতুন করে নজর রয়েছে।
আজ সকাল ১০টায় ইডির দফতরে পৌঁছনোর কথা ইন্দ্রনীল সেনের। সেখানে তাঁকে কী কী বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়, মঙ্গলবারের তল্লাশিতে তদন্তকারীরা কোনও গুরুত্বপূর্ণ নথি বা তথ্য পেয়েছেন কি না এবং তাঁর বক্তব্য কী—এই সমস্ত বিষয়েই নজর থাকবে। আপাতত মঙ্গলবারের দীর্ঘ তল্লাশি অভিযানের পর বুধবারের জিজ্ঞাসাবাদকে তদন্তের পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।




















