একুশে জুলাইয়ের আগে তৃণমূলে নতুন সমীকরণ? প্রতীক ও সম্পত্তি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত সুদীপের

একুশে জুলাইয়ের আগে তৃণমূলে নতুন সমীকরণ? প্রতীক ও সম্পত্তি নিয়ে আইনি লড়াইয়ের ইঙ্গিত সুদীপের

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
Print
Telegram



রাজ্য – একুশে জুলাই তৃণমূল কংগ্রেসের রাজনৈতিক ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। দীর্ঘদিন ধরে এই দিনটিকে দল নিজেদের শক্তি প্রদর্শনের অন্যতম প্রধান মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করেছে। তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্ষমতা হারানোর পর দলীয় অন্দরে বিভাজন, বিদ্রোহ এবং নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তার আবহে একুশে জুলাইকে ঘিরে তৈরি হয়েছে একাধিক প্রশ্ন।

বর্তমানে তৃণমূলের ভেতরে একাধিক গোষ্ঠীর অস্তিত্ব নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। কারা ‘আসল’ তৃণমূল, কারা নতুন নেতৃত্বের পক্ষে, কারা বিদ্রোহী শিবিরে এবং কারা এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত— তা নিয়ে ধোঁয়াশা ক্রমশ বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচি কীভাবে পালন করা হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এরই মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের অন্যতম প্রবীণ নেতা ও সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিদ্রোহী ২০ জন সাংসদের নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপিআই-তে যোগদানের পর অনেকেই মনে করেছিলেন, তাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের নাম, প্রতীক এবং সম্পদের দাবি থেকে সরে এসেছেন। কিন্তু সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যে সেই ধারণায় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

দিল্লি থেকে ফেরার পর সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দলের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীকচিহ্ন এবং সম্পত্তি নিয়ে কী পদক্ষেপ করা হবে, তা এখনও আলোচনার বিষয়। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তিনি মনে করেন, এই সমস্ত প্রশ্নের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতেই হবে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই মন্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ভবিষ্যতে প্রতীক ও সম্পত্তির অধিকার নিয়ে আইনি লড়াই শুরু হতে পারে।

সূত্রের খবর, দিল্লিতে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের লোকসভা ও বিধানসভার বিক্ষুব্ধ নেতাদের একত্রিত করার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী এবং সুদীপ-কাকলি শিবির এক ছাতার তলায় আসতে পারে, তাহলে দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশন বা আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, বিদ্রোহী সাংসদরা ইতিমধ্যেই অন্য রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে যোগ দেওয়ার পরও কীভাবে তৃণমূলের প্রতীকের দাবি তুলতে পারেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সূত্রের দাবি, এই বিষয়েও একাধিক সাংগঠনিক ও আইনি কৌশল নিয়ে আলোচনা চলছে।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আরও জানান, বিষয়টি অনেক দূর এগিয়েছে এবং বিধানসভা স্তরেও একই ধরনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, বিভিন্ন গোষ্ঠী কীভাবে একসঙ্গে বসবে, কীভাবে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরি করবে এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ভবিষ্যৎ রূপরেখা কী হবে, তা নিয়ে ধারাবাহিক আলোচনা চলছে।

একুশে জুলাইয়ের আগে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয় এবং প্রতীক-সংক্রান্ত বিতর্ক আদৌ আইনি লড়াইয়ে গড়ায় কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

RECOMMENDED FOR YOU.....

Scroll to Top