রাজ্য – তৃণমূল কংগ্রেসকে ঘিরে ‘ভাল’, ‘খারাপ’ কিংবা ‘কালো তৃণমূল’—এমন একাধিক তকমা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিজেপির তরফেও তৃণমূলের নেতাদের নিয়ে ‘ভাল তৃণমূল’ নামে একটি পৃথক শ্রেণির কথা বলা হয়েছিল। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য নিজেই অতীতে ‘ভাল তৃণমূল’ বলতে কাদের বোঝানো হচ্ছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। সেই সূত্রে উন্নয়নের স্বার্থে তৃণমূলের একাধিক নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বলেও দাবি করা হয়েছিল।
কিছুদিন আগেই বিজেপির তরফে ইঙ্গিত মিলেছিল, ‘ভাল তৃণমূল’ নেতাদের জন্য গেরুয়া শিবিরের দরজা খোলা রাখা হবে। তবে সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে আপত্তি জানিয়েছিলেন বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ। এবার স্বাধীনতা দিবসের দিন সেই ‘ভাল তৃণমূল’ নেতাদেরই কড়া বার্তা দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
শনিবার মুরলীধর সেন লেনে বিজেপির রাজ্য দফতরে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন শমীক ভট্টাচার্য। সেখানেই ‘ভাল তৃণমূল’ প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। শমীক বলেন, তাঁর বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই ‘ভাল তৃণমূল’ কথাটি সামনে এসেছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, ভাল হয়ে তাঁদের বাড়িতে বসে থাকাই উচিত। বিজেপির সেই ধরনের তৃণমূল নেতাদের কোনও প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শমীক ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ‘ভাল তৃণমূল’ নেতাদের বিজেপির মিছিলে আসারও প্রয়োজন নেই। তাঁদের ছাড়াই বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে এবং তাঁদের ছাড়াই কলকাতা ও হাওড়া পুরসভা দখল করার দাবি করেন তিনি। একইসঙ্গে তৃণমূলের সঙ্গে যুক্তদের গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিজেপির বিরোধিতা করার আহ্বান জানান।
বিজেপির রাজ্য সভাপতির স্পষ্ট বার্তা, তৃণমূল থেকে আসা ‘ভাল’ নেতাদের জন্যও বিজেপিতে কোনও জায়গা নেই। স্বাধীনতা দিবসের দিন শমীক ভট্টাচার্যের এই মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। অতীতে ‘ভাল তৃণমূল’ নেতাদের বিজেপিতে যোগদানের সম্ভাবনা নিয়ে যে আলোচনা হয়েছিল, এদিনের বক্তব্যে কার্যত সেই সম্ভাবনাতেই জল ঢেলে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।



















