রাজ্য – অনলাইনে অপপ্রচার, বিকৃত তথ্য, আপত্তিকর কনটেন্ট এবং ডিপফেকের ব্যবহার রুখতে সমাজমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলির উপর নজরদারি আরও জোরদার করেছে প্রশাসন। সূত্রের খবর, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই—এই পাঁচ মাসে মেটা, গুগল-সহ বিভিন্ন বড় প্রযুক্তি সংস্থাকে প্রায় ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ব্লকিং নির্দেশ পাঠানো হয়েছে।
এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে হিসেব করলে দেখা যাচ্ছে, গড়ে প্রতি ৬৮ সেকেন্ডে একটি করে পোস্ট, অ্যাকাউন্ট অথবা অনলাইন কনটেন্ট ব্লক করার নির্দেশ পেয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি সংস্থাগুলি। সর্বভারতীয় একটি সংবাদমাধ্যমের বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ্যে এসেছে। একই সময়ে দেশে প্রশ্নফাঁস, ছাত্র আন্দোলন-সহ একাধিক উত্তপ্ত ঘটনা ঘটেছিল। ফলে ওই সময় অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও কনটেন্টের উপর প্রশাসনের নজরদারি কতটা বেড়েছিল, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্র এবং বিভিন্ন রাজ্য সরকারের তরফে যে বিপুল সংখ্যক ব্লকিং নির্দেশ পাঠানো হয়েছে, তার বড় অংশই গিয়েছে মেটার কাছে। অর্থাৎ ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম-সহ মেটার অধীনস্থ প্ল্যাটফর্মগুলিই এই ধরনের সরকারি নির্দেশের সবচেয়ে বড় অংশ পেয়েছে। হিসেব অনুযায়ী, প্রতি ১০টি ব্লকিং নির্দেশের মধ্যে প্রায় ৯টিই মেটার কাছে পৌঁছেছে।
প্রশাসনের তরফে অনলাইনে ভুয়ো তথ্য, বিকৃত বিষয়বস্তু এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি ডিপফেকের মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে কোনও সংবেদনশীল ঘটনা বা অশান্ত পরিস্থিতিতে সমাজমাধ্যমে দ্রুত তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় তার প্রভাব যাতে বাস্তব পরিস্থিতিকে আরও জটিল না করে তোলে, সেই কারণেই প্ল্যাটফর্মগুলির সঙ্গে প্রশাসনিক সমন্বয় বাড়ানো হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
তবে বিপুল সংখ্যক ব্লকিং নির্দেশ ঘিরে ডিজিটাল পরিসরে নজরদারি এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কোন ধরনের কনটেন্টের ক্ষেত্রে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোন সংস্থা বা প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশ পাঠিয়েছে এবং কতগুলি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কনটেন্ট সত্যিই সরানো হয়েছে—তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সামনে এলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।
মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত মাত্র পাঁচ মাসে প্রায় ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ব্লকিং নির্দেশের এই পরিসংখ্যানই দেখিয়ে দিচ্ছে, অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের তৎপরতা কতটা বেড়েছে। ডিপফেক, অপপ্রচার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে এই নজরদারি আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।




















