রাজ্য – রাজ্যে বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূরণের আগে পুরুলিয়ায় শিল্পায়নের নতুন দিশা দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার রঘুনাথপুরে ‘অমিত মেটালিকস’-এর পরিবেশবান্ধব গ্রিনফিল্ড শিল্প প্রকল্পের শিলান্যাস করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, পুরুলিয়ার মতো তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে থাকা এলাকায় শিল্পের প্রসার ঘটিয়ে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এই প্রকল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আগামী ১৮ আগস্ট রাজ্যে বিজেপি সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হতে চলেছে। তার ঠিক আগে রঘুনাথপুরের মাটিতে শিল্প প্রকল্পের সূচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দিয়েছেন, উন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়ে শিল্প ও কর্মসংস্থানকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায় তাঁর সরকার। তাঁর দাবি, আগামী দিনে এই প্রকল্পকে কেন্দ্র করে পুরুলিয়ায় প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ আসতে পারে।
শুধু বিনিয়োগ নয়, এই প্রকল্পের হাত ধরে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে বলে আশাবাদী মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রায় ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে শিল্প প্রকল্পটি পুরুলিয়ার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিবেশের বিষয়টিকেও প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। গ্রিনফিল্ড শিল্প প্রকল্প হিসেবে এখানে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। শিল্পের প্রসারের সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে তুলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
শুভেন্দু অধিকারী বরাবরই রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগ বৃদ্ধির পক্ষে সওয়াল করে এসেছেন। তাঁর বক্তব্য, কলকাতা বা রাজ্যের শিল্পোন্নত অঞ্চলগুলির পাশাপাশি পুরুলিয়ার মতো পিছিয়ে থাকা এলাকাতেও বড় শিল্প বিনিয়োগ পৌঁছে দিতে হবে। শিল্প গড়ে উঠলে শুধু কর্মসংস্থান নয়, স্থানীয় পরিকাঠামো, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও গতি পাবে বলে মনে করছে রাজ্য সরকার।
রঘুনাথপুরের এই প্রকল্পের সূচনাকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, পশ্চিমবঙ্গের শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উন্নয়নের ভাবনা এবং শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শকে সামনে রেখে এগোতে চায় তাঁর সরকার। রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ আনা, শিল্পের পরিবেশ তৈরি করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোই আগামী দিনের অন্যতম লক্ষ্য বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
রাজ্য সরকারের ১০০ দিনের প্রাক্কালে পুরুলিয়ায় ৪ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগ এবং প্রায় ৫ হাজার কর্মসংস্থানের এই ঘোষণা তাই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক—দুই দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। এখন এই প্রকল্প কত দ্রুত বাস্তব রূপ নেয় এবং এর মাধ্যমে পুরুলিয়ার শিল্প মানচিত্রে কতটা পরিবর্তন আসে, সেদিকেই নজর থাকবে।




















