কলকাতা: দুর্গাপুজোয় চোরবাগানের মর্মান্তিক বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে কালীপুজোর উদ্যোক্তাদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা জারি করল লালবাজার। মণ্ডপে ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে জরুরি পরিস্থিতিতে দর্শনার্থীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া—প্রতিটি বিষয়েই বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দা।
পুলিশ কমিশনারের নির্দেশ, মণ্ডপে মাইক নিয়ে দর্শনার্থীদের উদ্দেশে কোনও ঘোষণা করতে হলে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই তা করতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশের উপস্থিতিতে মাইক ব্যবহার করে ঘোষণা করতে হবে। পাশাপাশি, কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে কীভাবে দ্রুত দর্শনার্থীদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হবে, তার জন্য প্রত্যেক কালীপুজো কমিটিকে আগাম ‘এমার্জেন্সি ইভাকুয়েশন প্ল্যান’ তৈরি রাখতে বলা হয়েছে।
পুলিশের আরও নির্দেশ, মণ্ডপে প্রবেশের রাস্তা যতটা চওড়া রাখা হবে, বেরনোর পথ তার তুলনায় দ্বিগুণ প্রশস্ত রাখতে হবে। দর্শনার্থীরা যাতে নিরাপদে এবং সহজে মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন, তার জন্য পর্যাপ্ত জায়গার ব্যবস্থা করতে হবে। কীভাবে দ্রুত দর্শনার্থীদের সরিয়ে নেওয়া হবে, সেই পরিকল্পনা আগাম তৈরি রাখতে হবে পুজো উদ্যোক্তাদের। প্রয়োজনে সেই পরিকল্পনা পুলিশকেও জানাতে হবে।
সোমবার ধনধান্য অডিটোরিয়ামে শহরের কালীপুজো কমিটিগুলির সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করে কলকাতা পুলিশ। সেখানেই নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এই নির্দেশগুলি দেওয়া হয়। চোরবাগানে ভুল ঘোষণা থেকে বিপর্যয় আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল বলে মনে করছে পুলিশ। সেই কারণেই মণ্ডপে ঘোষণা করার ক্ষেত্রে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয়ের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ বছর কলকাতায় মোট ৩৪৪২টি কালীপুজো হচ্ছে। আগামী ১০ থেকে ১২ নভেম্বরের মধ্যে কালীপ্রতিমা বিসর্জন দিতে হবে। দুর্গাপুজোয় চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না হয়, সেই লক্ষ্যেই কালীপুজোর আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বিশেষ জোর দিচ্ছে লালবাজার।



















