খেলা – ম্যাচ শেষ হতেই যুবভারতীর গ্যালারিতে উচ্ছ্বাসের ঢেউ। ইস্টবেঙ্গলের কোচ এবং ফুটবলারদের গায়ে তখন ‘চ্যাম্পিয়ন’ লেখা টি-শার্ট। কয়েক মাস আগে আইএসএল জয়ের পর যে ছবি দেখা গিয়েছিল, যেন তারই পুনরাবৃত্তি। এর মধ্যেই টানেল দিয়ে মাঠে ঢুকলেন ইস্টবেঙ্গল কর্তা দেবব্রত সরকার। গায়ে টকটকে লাল জামা, তার উপর জড়ানো বিশাল ইস্টবেঙ্গল পতাকা। মাঠে ঢুকেই সোজা চলে গেলেন কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের কাছে। আবেগঘন মুহূর্তে কোচকে জড়িয়ে ধরলেন দেবব্রত।
ততক্ষণে গ্যালারি মুখর ‘জয় ইস্টবেঙ্গল’ ধ্বনিতে। হাবাসকে আলিঙ্গনের পর সেই লাল-হলুদ পতাকা বড় ম্যাচের মহাতারকা এডমুন্ডের গায়েও জড়িয়ে দেন ইস্টবেঙ্গল কর্তা। মাঠের সেই আবেগ যেন ছাপিয়ে গেল ম্যাচের উত্তেজনাকেও। এরপর আরও এক বিশেষ মুহূর্তের সাক্ষী হল যুবভারতী। প্রভসুখন গিল, আনোয়ার আলি, জয় গুপ্তা-সহ ইস্টবেঙ্গলের গোটা দল মাঠে বসে নরওয়ের ফুটবল দলের আদলে শুরু করে দেয় ‘ভাইকিং রো’। গ্যালারির সমর্থকরাও সেই উদযাপনে গলা মেলান।
তবে এই জয়ের অন্যতম নায়ক ইস্টবেঙ্গল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাস। বড় ম্যাচের জয়ের পর কোনও রাখঢাক না রেখেই তিনি জানিয়ে দিলেন, তাঁর কোচিং জীবনের এটাই সেরা ডার্বি জয়। কেন এই ডার্বিকে এতটা বিশেষ মনে করছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন হাবাস। তাঁর কথায়, আগের ডার্বিগুলি ফাইনাল ছিল না। কিন্তু এই ম্যাচ ছিল ফাইনাল, আর সেই ফাইনাল জিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইস্টবেঙ্গল। তাই তাঁর কাছে এটাই জীবনের সেরা ডার্বি জয়।
জয়ের পর দলের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেন হাবাস। তাঁর মতে, স্বপ্নের মতো একটি জয় পেয়েছে ইস্টবেঙ্গল। দলগতভাবে ফুটবলাররা ভালো খেলেছেন, পাশাপাশি ব্যক্তিগত দক্ষতারও দারুণ প্রকাশ ঘটেছে। প্রত্যেক ফুটবলারকে অভিনন্দন জানিয়ে কোচের বার্তা, এই জয় শুধু একজন বা দু’জনের নয়, গোটা দলের সম্মিলিত সাফল্য। আর সেই সাফল্যের রাতেই দেবব্রত সরকারের আবেগ, সমর্থকদের উন্মাদনা এবং ফুটবলারদের ‘ভাইকিং রো’—সব মিলিয়ে স্মরণীয় হয়ে রইল লাল-হলুদের ডার্বি জয়।




















