বিরাটি
জলপাইগুড়ি, পশ্চিম মেদিনীপুর কিংবা হাওড়ার পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটি। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিরাটির বণিক মোড়ে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের সভাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায়। সভামঞ্চ, চেয়ার এবং ব্যানারে ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ ওঠে। ঘটনায় কয়েকজন বাম কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন বলে দলীয় সূত্রে দাবি। এক কর্মীর চোখেও গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে অভিযোগ।
সিপিএমের অভিযোগ, সভার প্রস্তুতি চলার সময় থেকেই মাইক ও মঞ্চ তৈরিতে বাধা দেওয়া হচ্ছিল। পরে সভা শুরু হওয়ার সময় আচমকাই একদল লোক সেখানে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং কর্মী-সমর্থকদের উপর হামলা করে বলে অভিযোগ। এমনকী মহাত্মা গান্ধীর ছবিও ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে বলে দাবি বামেদের। ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সিপিএম।
এই হামলার নেপথ্যে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা রয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সিপিএম। ঘটনার প্রতিবাদে সরব হন দলের নেত্রী দীপ্সিতা ধর। সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশের সামনে হামলা ও ভাঙচুর হলেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একই জায়গায় ফের সভা করার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। প্রয়োজনে মাইক বা মঞ্চ ছাড়াই সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে ‘খালি গলায়’ সভা করার বার্তা দেন দীপ্সিতা।
যদিও সিপিএমের সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। উত্তর দমদমের বিধায়ক সৌরভ শিকদারের দাবি, ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনও কর্মী বা নেতার যোগ নেই। তাঁর বক্তব্য, স্থানীয় মানুষ সভা না করার কথা বলেছিলেন এবং তা নিয়ে বচসা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর সাধারণ মানুষের প্রতিবাদ থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছে বলে দাবি তাঁর। একই সঙ্গে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন বিজেপি বিধায়ক।
ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাজনৈতিক সভাকে কেন্দ্র করে এমন উত্তেজনা কীভাবে তৈরি হল, কারা ভাঙচুরে জড়িত ছিল এবং অভিযোগের সত্যতা কতটা—তা নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।




















