রাজ্য – ভ্যাপসা গরম ও আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিতে অতিষ্ঠ দক্ষিণবঙ্গের মানুষ। বর্ষার অপেক্ষায় প্রহর গুনলেও আপাতত আবহাওয়ার বড় কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে না। তবে সপ্তাহান্তের পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ সীমিত থাকলেও ২০ জুনের পর থেকে কয়েকটি জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে।
বৃহস্পতিবার পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পুরুলিয়া এবং বাঁকুড়া জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এই কারণে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জন্য হলুদ সতর্কতা জারি করেছে আবহাওয়া দফতর। তবে দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ এলাকাতেই গরম এবং আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তি বজায় থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, রবিবারের পর থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশেষ করে ২০ থেকে ২২ জুনের মধ্যে কলকাতা, পূর্ব মেদিনীপুর, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কয়েকটি এলাকায় ভারী বৃষ্টিও হতে পারে। এর ফলে তাপমাত্রা কিছুটা কমে গিয়ে সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফিরতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে বর্ষা অনেকটাই সক্রিয় রয়েছে। বৃহস্পতিবার জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। এই দুই জেলার জন্য জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। পাশাপাশি দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুর জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে।
উত্তরবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। যদিও কলকাতায় গত সপ্তাহেই বর্ষার আনুষ্ঠানিক প্রবেশ ঘটেছে, তবুও এখনও তা পুরোপুরি সক্রিয় হয়নি। আগামী তিন থেকে চার দিনে শহরে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকায় গরম ও অস্বস্তি থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। তবে সপ্তাহের শেষে আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা।



















