দেশ -;প্রায় দেড় দশক পর দেশে ফের শুরু হতে চলেছে জনগণনা। এই প্রক্রিয়াকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গেও প্রশাসনিক প্রস্তুতি জোরকদমে শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ব্লকে গণনাকর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তথ্য সংগ্রহ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিভুক্তকরণ এবং সাধারণ মানুষকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করার কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যায়। পাশাপাশি জনগণনা সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত বিষয়েও তাঁদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, জনগণনা দুটি ধাপে সম্পন্ন হবে। প্রথম ধাপ আগামী ১ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। এই পর্যায়ে ‘স্বগণনা’ পদ্ধতির মাধ্যমে প্রতিটি পরিবারকে নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে নিজেদের তথ্য নিজেরাই জমা দিতে হবে। কোনও পরিবার প্রযুক্তিগত সমস্যার সম্মুখীন হলে বা অনলাইন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে অসুবিধা হলে গণনাকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন।
দ্বিতীয় ধাপে ১৬ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত গণনাকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অনলাইনে জমা দেওয়া তথ্যের সঙ্গে বাস্তব তথ্য মিলিয়ে দেখবেন। কোথাও কোনও ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। এই প্রাথমিক পর্যায় শেষ হওয়ার পর আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে মূল জনগণনার কাজ সম্পন্ন হবে। প্রত্যেক গণনাকর্মীর দায়িত্বে গড়ে ১৫০ থেকে ১৮০টি পরিবার থাকবে। একইসঙ্গে স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সাহায্যে সংশ্লিষ্ট এলাকার মানচিত্রও প্রস্তুত করা হবে।
স্বগণনার সময় প্রতিটি পরিবারকে মোট ৩৪টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়ার পর নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি পাঠানো হবে, যার মাধ্যমে তথ্য জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। প্রশ্নগুলির মধ্যে থাকবে বাড়ির নম্বর, সেন্সাস গৃহ নম্বর, বাড়ির নির্মাণসামগ্রী, বাড়ির ব্যবহার, পরিবারের সদস্যসংখ্যা, পরিবারের প্রধানের নাম, লিঙ্গ, তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণিভুক্ত কি না, বাড়ির মালিকানার ধরন, বসবাসযোগ্য ঘরের সংখ্যা, বিবাহিত দম্পতির সংখ্যা, পানীয় জলের উৎস এবং বিদ্যুতের প্রধান উৎস সম্পর্কিত তথ্য।
এছাড়াও শৌচালয়ের ধরন, জলনিকাশী ব্যবস্থা, স্নানের সুবিধা, রান্নাঘর ও এলপিজি সংযোগ, রান্নার জ্বালানির ধরন, রেডিও, টেলিভিশন, ইন্টারনেট, কম্পিউটার বা ল্যাপটপের ব্যবহার, মোবাইল বা স্মার্টফোনের উপস্থিতি, সাইকেল, মোটরসাইকেল, স্কুটার ও চারচাকার গাড়ির তথ্য, পরিবারের প্রধান খাদ্যশস্য এবং যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বরও সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি পরিবারের পুরুষ, মহিলা ও তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যসংখ্যা, বয়স, লিঙ্গ-পরিচয়সহ একাধিক ব্যক্তিগত তথ্য এবং বাড়ির নির্মাণের ধরনও নির্ধারিত শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী নথিভুক্ত করা হবে।




















