স্থান: কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ
দুর্গাপুজোর সময় রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সিপিএমের বইবিপণিকে কেন্দ্র করে গোলমালের অভিযোগ উঠেছিল। পুজোর দিনগুলিতে বইয়ের স্টল রক্ষায় সাধ্যমতো উদ্যোগী হয়েছিলেন বাম কর্মী-সমর্থকেরা। এবার বড়দিনেও একই ধরনের পরিস্থিতির আশঙ্কা করে সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করেছে সিপিএম। এই প্রক্রিয়ায় গতি এসেছে খ্রিস্টান সংগঠনের প্রতিনিধিদের আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে গিয়ে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে বৈঠকের পর।
সিপিএমের আশঙ্কা, বড়দিনের সময়ও বিভিন্ন জায়গায় ধর্মীয় উস্কানিকে কেন্দ্র করে অশান্তি তৈরি হতে পারে। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই দলের কয়েকটি জেলা কমিটিকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে নদিয়া জেলা। দলের বক্তব্য, রানাঘাট ও কৃষ্ণনগর-সহ নদিয়ার বিভিন্ন এলাকায় বাংলাভাষী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষের বসবাস রয়েছে। তাই বড়দিনের সময় ওই জেলায় বিশেষ প্রস্তুতি রাখতে চাইছে দল।
বৃহস্পতিবার নদিয়ায় গিয়ে জেলা কমিটির বৈঠকে বড়দিন উপলক্ষে দলের করণীয় সম্পর্কে বার্তা দেন মহম্মদ সেলিম। যদিও প্রস্তুতির বিস্তারিত পরিকল্পনা নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাননি। তবে সেলিম জানান, বঙ্গীয় খ্রিস্টীয় পরিষেবার প্রতিনিধিরা তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে, রাজ্যের কোথাও কোনও ঘটনা ঘটলে সিপিএমের ছাত্র-যুব সংগঠনের কর্মীরা পরিস্থিতি অনুযায়ী সেখানে পৌঁছবেন।
অন্যদিকে, খ্রিস্টান সংগঠনটির প্রতিনিধি হেরোদ মল্লিক জানিয়েছেন, তাঁরা শুধু সিপিএমের সঙ্গেই নয়, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মহম্মদ সেলিমের পাশাপাশি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গেও তাঁরা দেখা করেছেন। পাশাপাশি, আরএসএসের সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার বিজেপি নেতা চার্লস নন্দীর সঙ্গেও ফোনে কথা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দুর্গাপুজোর সময় বইবিপণিকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের পর বড়দিনের আগে এই তৎপরতা রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নতুন করে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে বড়দিনে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংগঠন কী পদক্ষেপ করে, এখন সেদিকেই নজর।




















